― Advertisement ―

প্রিন্স সুলতান এয়ার বেস (মার্কিন ঘাঁটি) ও তেল শোধনাগারে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা; প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। ইরান ও তার মিত্রদের একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলো। শনিবার (৭ মার্চ ২০২৬) ভোরে রাজধানী রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ‘প্রিন্স সুলতান এয়ার বেস’ লক্ষ্য করে চালানো বড় ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নস্যাৎ করে দিয়েছে সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী। এই ঘাঁটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মার্কিন সেনাসদস্য মোতায়েন থাকায় এই হামলাকে সরাসরি ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের একটি শক্ত বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

হামলার লক্ষ্যবস্তু কেবল সামরিক ঘাঁটিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং বিশ্বের জ্বালানি মানচিত্রের হৃদপিণ্ড হিসেবে পরিচিত সৌদি আরবের তেল ক্ষেত্রগুলোতেও আঘাত হানার চেষ্টা করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সীমান্তের কাছে অবস্থিত শায়বাহ (Shaybah) তেল ক্ষেত্র এবং পূর্বাঞ্চলের বৃহৎ তেল শোধনাগার রাস তানুরায় (Ras Tanura) ড্রোন হামলার চেষ্টা চালানো হয়। যদিও সৌদি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে, প্রতিটি আক্রমণই সফলভাবে আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে, তবে এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার সংকেত দিচ্ছে।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি তেহরানকে ‘ভুল হিসাব’ (Wrong Calculation) না করার জন্য সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার যেকোনো প্রচেষ্টার পরিণাম হবে ভয়াবহ। বিশেষ করে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সাথে এক জরুরি বৈঠকের পর তিনি এক্স (টুইটার) বার্তায় জানান, ইরানের এই আগ্রাসন বন্ধে রিয়াদ প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে বদ্ধপরিকর। সৌদি আরবের এই অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, তারা এখন আর কেবল আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না।

গত এক সপ্তাহ আগে ইরান ও তার মিত্রদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকেই পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে এই প্রতিশোধমূলক সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান সরাসরি দায় স্বীকার না করলেও এই হামলাগুলোর ধরন ও লক্ষ্যবস্তু তাদের দিকেই নির্দেশ করছে। একদিকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং অন্যদিকে বিশ্বের বৃহত্তম তেল অবকাঠামো—এই দুই জায়গাতেই আঘাত হানার চেষ্টা মূলত বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে জিম্মি করার একটি কৌশল। এখন দেখার বিষয়, রিয়াদের এই কড়া বার্তার পর তেহরান তাদের সামরিক কৌশলে কোনো পরিবর্তন আনে কি না।