পাকিস্তানের করাচিতে গুল শপিং প্লাজায় স্মরণকালের ভয়াবহতম অগ্নিকাণ্ডের এক সপ্তাহ পার হলেও শোকের মাতম থামছে না। উদ্ধার অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭২ জনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে নিখোঁজ থাকা অন্তত ১২ জন মানুষ, যাদের ভাগ্যে ঠিক কী ঘটেছে তা এখনো অস্পষ্ট। গত ১৭ জানুয়ারি রাতে বেসমেন্ট থেকে শুরু হওয়া সেই আগুন মুহূর্তের মধ্যে পুরো শপিং মলকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছিল। ৩৬ ঘণ্টার দীর্ঘ লড়াই শেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে ১,২০০ দোকান সমৃদ্ধ বিশাল এই বাণিজ্যিক কেন্দ্রটি কেবল কঙ্কাল হয়ে ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে।
উদ্ধারকর্মীদের জন্য সবচেয়ে হৃদয়বিদারক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে মরদেহ শনাক্তকরণ। পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়া দেহগুলো দেখে চেনার কোনো উপায় নেই। সিন্ধ প্রদেশের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া অধিকাংশ মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা অসম্ভব। এখন পর্যন্ত মাত্র ২২ জনের পরিচয় মিলেছে, বাকিদের জন্য অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন স্বজনরা। উদ্ধার অভিযান প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনো বিচ্ছিন্ন দেহাংশ পাওয়া যাচ্ছে, যা ঘটনার ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা করাচির সুউচ্চ ভবনগুলোর অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঙ্কালসার অবস্থাকে আবারও জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে। পর্যাপ্ত ফায়ার এক্সিট না থাকা এবং অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জামের অভাবই প্রাণহানি এত বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সিন্ধ বিল্ডিং কন্ট্রোল অথরিটি ইতিমধ্যে শহরের ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনকে নোটিশ দিয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, প্রতিটি দুর্ঘটনার পরেই এমন তোড়জোড় শুরু হলেও দীর্ঘমেয়াদে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা কি নিশ্চিত হবে? তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করলেও স্বজনহারা পরিবারগুলোর কাছে এখন বিচার এবং নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতিই সবচেয়ে বড় দাবি।



