গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিবেশী কানাডার আপত্তিতে চরম উষ্মা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের দাবি, এই আকাশ প্রতিরক্ষা প্রকল্প কানাডাকেও নিরাপত্তা দিত, কিন্তু অটোয়া এর বিরোধিতা করে চীনের সঙ্গে সখ্যতা বাড়াচ্ছে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক বার্তায় তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বলয় থেকে বেরিয়ে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ হলে মাত্র এক বছরের মধ্যেই চীন কানাডাকে গ্রাস করবে। উত্তর আমেরিকার দুই নিকটতম প্রতিবেশীর মধ্যে এমন বাকযুদ্ধ কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বক্তব্যের পর থেকেই এই উত্তেজনার সূত্রপাত। ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে, কানাডা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিনামূল্যে নিরাপত্তা সুবিধা ভোগ করলেও বিনিময়ে কোনো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে না। তিনি সরাসরি কার্নিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মার্কিন সুরক্ষা ছাড়া কানাডার অস্তিত্ব রক্ষা কঠিন হতো। ট্রাম্পের এমন কড়া হুঁশিয়ারি মূলত কানাডার নতুন চীনমুখী বাণিজ্য নীতির প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ওয়াশিংটনকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
অন্যদিকে, কানাডা তার অর্থনীতিকে আরও স্বাধীন ও বৈচিত্র্যময় করতে চীনের সঙ্গে বড় ধরনের বাণিজ্য চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে। প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের এই চুক্তির আওতায় কানাডা চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর আরোপিত ১০০ শতাংশ শুল্ক তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার বিনিময়ে বেইজিং কানাডীয় কৃষিপণ্যের ওপর শুল্ক হ্রাস করবে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, বর্তমানের অনিশ্চিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে তারা একক কোনো দেশের ওপর নির্ভর না করে নতুন অংশীদার খুঁজছেন। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য নীতি নিয়ে দুই দেশের এই দূরত্ব উত্তর আমেরিকার ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।



