― Advertisement ―

ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে প্রথম সরাসরি শান্তি আলোচনা, ট্রাম্পের দাবি—চুক্তি এখন সময়ের ব্যাপার।

দীর্ঘ চার বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে অবশেষে সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসেছে ইউক্রেন ও রাশিয়া। শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবু ধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নতুন শান্তি পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই আলোচনা শনিবার পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। যদিও এই পরিকল্পনার প্রাথমিক খসড়া নিয়ে কিয়েভ ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছিল, তবে সংশোধিত প্রস্তাবে ইউরোপীয় শান্তিরক্ষী মোতায়েনের বিষয়টি যুক্ত হওয়ায় আলোচনার মোড় ঘুরেছে।

বৈঠকের প্রধান অমীমাংসিত ইস্যু হিসেবে দেখা দিয়েছে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাস অঞ্চল। মস্কোর পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, ডনবাস থেকে ইউক্রেনীয় সেনা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কোনো সমঝোতা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, কিয়েভ তাদের ভূখণ্ড ছাড়তে নারাজ। ইউক্রেনের প্রধান আলোচক রুস্তেম উমেরভ জানিয়েছেন, প্রথম দিনের আলোচনায় মূলত যুদ্ধের অবসান এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার কাঠামো তৈরি নিয়ে কথা হয়েছে। দাভোসে ট্রাম্প-জেলেনস্কি এবং মস্কোতে পুতিন-উইটকফ বৈঠকের পর এই ত্রিপক্ষীয় আলোচনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

কূটনৈতিক এই টানাপোড়েনের মাঝেই ইউক্রেনের আকাশে থামেনি রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন। একদিকে যখন আবু ধাবিতে শান্তির পথ খোঁজা হচ্ছে, অন্যদিকে তখন তীব্র শীতে বিদ্যুৎ ও উত্তাপহীন কিয়েভে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে হাজারো মানুষ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন একে রাশিয়ার সুপরিকল্পিত অমানবিক কৌশল বলে অভিহিত করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে উভয় পক্ষ চুক্তির খুব কাছে রয়েছে, কিন্তু ডনবাস নিয়ে দুই দেশের বিপরীতমুখী অবস্থান এই শান্তি প্রক্রিয়াকে এখনো অনিশ্চয়তার দোলাচলে রেখেছে।