― Advertisement ―

এবার ঢামেকে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত

বরিশাল মেইল ডেস্কঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) একাডেমিক কাউন্সিলে এক জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ক্যাম্পাস ও হলে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।ঢাকা মেডিকেল কলেজ তদন্ত...

অবিবাহিত তরুণদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ বাড়ছে, দুশ্চিন্তায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা

বাংলাদেশে তরুণ বয়সীদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ বাড়ার প্রবণতা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে নতুন করে প্রায় ১ হাজার ৯০০ জন এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে এ রোগে মারা গেছেন দুই শতাধিক মানুষ।

সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো—নতুন শনাক্তদের একটি বড় অংশই অবিবাহিত তরুণ–তরুণী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস ও এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির হিসাব বলছে, ২০২৫ সালে নতুন আক্রান্তদের প্রায় ৪২ শতাংশই অবিবাহিত তরুণ। আগের বছর এই হার ছিল প্রায় ৩১ শতাংশ। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সংক্রমণের এই দ্রুত বৃদ্ধি জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের চিন্তিত করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরুণ সমাজে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ বাড়ছে। কনডম ছাড়া যৌন সম্পর্ক, একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ক, সঙ্গীর স্বাস্থ্য অবস্থা না জানা এবং ইনজেকশন ড্রাগ ব্যবহারের সময় একই সুচ ভাগাভাগি করার মতো অভ্যাস এইচআইভি ছড়িয়ে পড়ার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

রাজধানীর বাইরে পরিস্থিতি আরও জটিল। যশোরসহ কয়েকটি জেলায় স্কুল ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এইচআইভি সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই বয়সে কৌতূহল বেশি থাকলেও সচেতনতা কম থাকে, ফলে অনেকেই ঝুঁকি না বুঝেই ভুল পথে পা বাড়ায়।

জাতিসংঘের এইডস কর্মসূচি ইউএনএইডসের বাংলাদেশ প্রতিনিধি জানান, ২৫ বছরের নিচের বয়সীদের মধ্যে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বেশি। সামাজিক ট্যাবু ও লজ্জার কারণে অনেকেই কনডম ব্যবহার বা পরীক্ষা করানোর বিষয়ে খোলাখুলি কথা বলতে পারেন না।

চিকিৎসকরা বলছেন, এইচআইভি পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য না হলেও নিয়মিত ওষুধ সেবনে আক্রান্ত ব্যক্তি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন এবং অন্যের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকিও অনেক কমে যায়। তবে বাস্তবে অনেক তরুণ সামাজিক ভয় ও অপমানের আশঙ্কায় দেরিতে পরীক্ষা করান, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।

মনোবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব, প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং পরিবারে খোলামেলা আলোচনার অভাব তরুণদের আচরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এইচআইভি সংক্রমণ কমাতে হলে স্কুল পর্যায় থেকেই প্রজনন ও যৌন স্বাস্থ্য শিক্ষা চালু করতে হবে। পাশাপাশি গণমাধ্যম, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে কাজ করে সচেতনতা বাড়াতে হবে। তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ থেকে দূরে রাখতে সামাজিক উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।