গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে নিজের ভাবনা পাল্টেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি আগে বলেছিলেন, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়ে যারা বিরোধিতা করবে, তাদের ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে তার।
তবে নেটোর সঙ্গে আলোচনার পর গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সম্ভাব্য একটি চুক্তির বিষয়ে ভাবছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে গতকাল বুধবার ট্রাম্প লিখেছেন, নেটো প্রধানের সঙ্গে “খুবই ফলপ্রসূ বৈঠক” হয়েছে, যার ফলে গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে একটি সম্ভাব্য চুক্তির ‘কাঠামো’ তৈরি হয়েছে।
যেসব ইউরোপীয় দেশ দ্বীপটি অধিগ্রহণের বিষয়ে বিরোধিতা করেছিল তাদের ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা থেকে সরে আসার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে তিনি এ বিষয়ে খুব বেশি বিস্তারিত জানাননি।
এর আগে, দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি সামরিক শক্তি ব্যবহার করবেন না। তবে ওই অঞ্চলের মালিকানা পেতে আলোচনা করতে চান।
বিশ্লেকরা বলছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন এর বিশাল এবং এখনো অনেকটাই অনাবিষ্কৃত বিরল খনিজ সম্পদের মজুদের কথা বিবেচনা নিয়ে দ্বীপটি অধিগ্রহণের দিকে মনোযোগি হয়েছে। এসব খনিজের অনেকগুলোই মোবাইল ফোন ও বৈদ্যুতিক গাড়িসহ বিভিন্ন প্রযুক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া ট্রাম্পের কল্পনা করা এই ভবিষ্যৎ ব্যবস্থায় স্থল, সমুদ্র ও মহাকাশজুড়ে বিস্তৃত ইন্টারসেপ্টর ও শনাক্তকারী ব্যবস্থা থাকবে, যার লক্ষ্য হবে যুক্তরাষ্ট্রকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সুরক্ষা দেওয়া।
নেটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট এক বিবৃতিতে বলেন, বৈঠকের সময় ট্রাম্প ও রুটে ‘যুক্তরাষ্ট্রসহ সব মিত্র দেশের জন্য আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন’।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে যাবে, যার লক্ষ্য থাকবে অর্থনৈতিক বা সামরিক কোনোভাবেই যেন রাশিয়া ও চীন গ্রিনল্যান্ডে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে।’
বুধবার নেটোর বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থাটি সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের ঘাঁটির মতো হতে পারে, যেগুলো ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরির অংশ।
বুধবার দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের জন্য তিনি আলোচনা চান, তবে এটাও জোর দিয়ে বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র শক্তি প্রয়োগ করে ওই ভূখণ্ড দখল করবে না।
তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান যে তাদের উচিত ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রকে নিতে দেওয়া। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আপনারা হ্যাঁ বলতে পারেন, তাহলে আমরা খুবই কৃতজ্ঞ থাকব। অথবা না বলতে পারেন, তাহলে আমরা তা মনে রাখব’।



