― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

রাসায়নিকের আগুনে অসহায় ফায়ার সার্ভিস, নিভল ১৬ প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা সাধারণ আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেও রাসায়নিকের আগুন নেভাতে গিয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হয় তাঁদের। পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টার মতো আবারও বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডে মিরপুরের শিয়ালবাড়িতে একটি পোশাক কারখানা ও কেমিক্যাল গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডে ১৬ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া আগুনে দগ্ধ আহত তিনজনকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, তিনজনকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ফায়ার সার্ভিসের সূত্র জানায়, ১৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে পোশাক কারখানার দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা থেকে। অগ্নিদুর্ঘটনাস্থলে কোন ধরনের রাসায়নিক আছে, তার প্রকৃত তথ্য না পাওয়ায় আগুন নেভাতে গিয়ে অনেক সময় বিপদে পড়েন তাঁরা।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র বলছে, ২০২২ সালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মোট ৫১ জন নিহত হন, যার ১৩ জনই ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ছিলেন। আর চলতি বছরে গাজীপুরে নিহত হন ফায়ার সার্ভিসের আরও ৩ জন কর্মী। গত পাঁচ বছরে দুটি বড় রাসায়নিক দুর্ঘটনায় তাদের মোট ১৬ জন কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।

গতকাল মিরপুরে রাসায়ানিকের গুদামে লাগা আগুনে পুড়ে সবকটি লাশই অঙ্গার হয়ে গেছে। লাশের ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অঙ্গার হওয়া লাশের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে ফায়ার সার্ভিস।

ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করার জন্য কাজ করছে সিআইডির ক্রাইম সিন ও কেমিক্যাল ল্যাব বিশেষজ্ঞরা। নাশকতা বা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস শিয়ালবাড়ীতে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি অগ্নিকাণ্ডে আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেন। এছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

ফায়ার সার্ভিসের সাবেক পরিচালক (অপারেশনস) মেজর (অব.) এ কে এম শাকিল নেওয়াজ বলেন, ‘উন্নত দেশগুলোতে রাসায়নিক গুদাম বা কেমিক্যালের আগুন নির্বাপণের জন্য আলাদা ফায়ার সার্ভিসের কর্মী থাকলেও আমাদের দেশে তা নেই । ফলে কোন ধরনের রাসায়নিকের আগুন কীভাবে নির্বাপণ করতে হবে, সেই প্রশিক্ষণ অনেকের নেই। এর মধ্যেই ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।’

তিনি আরো বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের যথাযথ সরঞ্জাম ও সুরক্ষা দিয়ে অগ্নিনির্বাপণের কাজে পাঠানো জরুরী। ফায়ার অ্যাক্ট, প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণে দ্রুত সংস্কার না আনলে এমন ঘটনা বারবার ঘটবে।’

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সেখানে গিয়ে দেখি দুটি ভবনই জ্বলছে। কোথা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে; রাসায়নিকের গুদাম নাকি পোশাক কারখানা থেকে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ৯টি লাশ একসঙ্গে স্তূপ আকারে ছিল। নিহত ব্যক্তিরা নারী না পুরুষ, তাও বোঝা যাচ্ছে না।’