আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা স্বতন্ত্র বা ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে অংশ নিতে পারবেন কি না, জাতীয় সংসদে উত্থাপিত সেই স্পর্শকাতর প্রশ্নটি কৌশলগতভাবে এড়িয়ে গেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে স্থানীয় সরকার বিভাগের মঞ্জুরি দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় এই বিতর্কটি সামনে আসে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সরাসরি মন্ত্রীর উদ্দেশে এই প্রশ্নটি ছুড়ে দেন, যা দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে রুমিন ফারহানা দেশের স্থানীয় শাসনব্যবস্থায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি এবং দীর্ঘ চার মাস ধরে অনির্বাচিত রাজনৈতিক প্রশাসকদের মাধ্যমে জেলা পরিষদ পরিচালনার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি এটিকে সংবিধানের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এ দেশের মানুষ দীর্ঘ সংগ্রাম করেছে। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার চার মাস অতিবাহিত হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ আমরা জানতে পারিনি।” একই সাথে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দলগতভাবে নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের কোনো নেতা নির্দলীয় প্রতীকের নির্বাচনে অংশ নিতে আইনি বাধা পাবেন কি না, কারণ এই বিষয়ে সরকারের ভেতরে ও বাইরে ভিন্ন ভিন্ন পরস্পরবিরোধী বক্তব্য শোনা যাচ্ছে।
সংসদ সদস্যের এই সুনির্দিষ্ট ও রাজনৈতিকভাবে জটিল প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গটি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান। তিনি কেবল নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমি আশ্বস্ত করতে পারি যে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পূর্ণ যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। আমরা সরকারের ভেতরে যে নীতিগত সিদ্ধান্তে একমত হয়েছি, সেই অনুযায়ীই সময়মতো নির্বাচনের আয়োজন করা সম্ভব হবে।” মন্ত্রীর এই সংক্ষিপ্ত ও কৌশলী অবস্থান থেকে স্পষ্ট যে, আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের ভোটাধিকার বা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি এখনো নীতিগতভাবে এক জটিল সমীকরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। শেখ হাসিনা নিজেই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। তবে আসন্ন নির্দলীয় স্থানীয় নির্বাচনে দলটির মাঠপর্যায়ের নেতাদের অংশগ্রহণ নিয়ে সরকারের ভেতরেই দ্বিমত রয়েছে। গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, যেহেতু নির্বাচনটি নির্দলীয়, তাই কোনো ব্যক্তি ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা থাকলে নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো আইনি সমস্যা থাকার কথা নয়।



