আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নেপালে তরুণদের আন্দোলনে সরকার পতনের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দেশটির প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকি। প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেপালের ইতিহাসেরও অংশ হলেন তিনি।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) নেপালের রাষ্ট্রপতি ভবনে স্থানীয় সময় রাত সোয়া ৯টায় তিনি শপথ নেন। তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেল।
দেশটিতে চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যে, জেন-জি আন্দোলনকারীদের দাবি অনুযায়ী, কারকিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করলেন রাষ্ট্রপতি রাম চন্দ্র পৌডেল।
রাষ্ট্রপতির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা সুরেশ চন্দ্র চালিসে জানিয়েছেন, “সংবিধানের আলোকেই রাষ্ট্রপতি সুশীলা কারকিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেছেন।”
দেশটির শীর্ষ নেতা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রপতির প্রেস উপদেষ্টা কিরণ পোখারেল বলেন, “রাষ্ট্রপতি মন্ত্রী পরিষদের সাথে পরামর্শ করে বাকি কাজ এগিয়ে নেবেন।”

তবে, রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা চালিসের বক্তব্য অনুসারে, একটা সমঝোতার ভিত্তিতে দেশটির মন্ত্রী পরিষদ গঠন এবং পরবর্তী বৈঠকে সংসদ বা প্রতিনিধি পরিষদ ভেঙে দেওয়ার সুপারিশ করা হবে।
এই বৈঠকে জরুরি অবস্থা এবং নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত না বললেও তিনি জানিয়েছেন, “উদ্ভূত অস্বস্তিকর পরিস্থিতি মোকাবেলার লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি এই প্রক্রিয়াটি গ্রহণ করেছেন।”
এর আগে, নেপালের আন্দোলন-বিক্ষোভের পর, ভার্চুয়াল ভোটের ফলাফলে সুশীলা কারকিকেই মনোনীত করেছিলেন ‘জেন জি’ বিক্ষোভকারীরা।
মিজ কারকির মতে, একজন আইনজীবী থেকে প্রধান বিচারপতি হওয়ার যাত্রায় তার স্বামীর সমর্থন এবং সততা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
তিনিও অবশ্য বিতর্ক থেকে মুক্ত নন। প্রধান বিচারপতি হিসেবে প্রায় ১১ মাসের মেয়াদে অভিশংসনের মুখোমুখি হয়েছিলেন সুশীলা কারকি নিজেও।
সূত্র: বিবিসি বাংলা



