নিজস্ব প্রতিবেদক
ডাকসু নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন ঘটনায় আলোচিত হচ্ছে দীর্ঘ ৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ২১টি আবাসিক হলে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু নির্বাচনের একদিন অতিবাহিত হলেও শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ৯ টা পর্যন্ত ফলাফল প্রকাশ করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন।
ভোট গ্রহণের আগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইস্যুতে সৃষ্টি হয়েছে নানান আলোচিত ঘটনা। বার বার খবরের শিরোনাম হয়েছে জাকসুর নির্বাচন।
শিক্ষকের মৃত্যু :
নির্বাচনে ভোট গণনা কার্যক্রমে অংশ নিতে এসে শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ভোট গণনা কক্ষের দরজার সামনে হঠাৎ পড়ে যান প্রীতিলতা হলে পোলিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস (৩১)।
পরে তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কেন ওএমআর পদ্ধতি বাতিল করে ম্যানুয়াল:
ডাকসু নির্বাচনে ওএমআর মেশিনে ভোট গণনা নিয়ে আলোচনা সমালোচনার কারণে জাকসুর সকল ভোট হাতে গণনা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
ভোটের দিন বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্য ড. সালেহ আহম্মদ খান।
ভোট গণনায় জটিলতা ও ধীরগতি :
বৃহস্পতিবার রাতে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ( হাতে গোনা) শুরু হওয়া ভোট গণনা আজ শুক্রবার বিকাল ৫টার পরে হঠাৎ করে ভোট গণনা বন্ধ করে জরুরি বৈঠকে বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন।
ঘন্টাখানেক বৈঠক শেষে সন্ধ্যা সোয়া ৬ টার দিকে অবশিষ্ট ভোট গণনা পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দেন প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা।
নির্বাচন বর্জনের হিড়িক :
ভোটগ্রহনের সময় আঙুলে লাগানো অমোচনীয় কালি উঠে যাওয়া, কালি শেষ হওয়া, প্রার্থীদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া, প্রশাসন ও নির্বাচন আয়োজকদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে মোট আটটি প্যানেলের পাঁচটি প্যানেলই ভোট বর্জন করে।
ছাত্রদলের বর্জনের পর ‘সম্প্রীতির ঐক্য’, ‘সংশপ্তক পর্ষদ’, ‘স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ’ ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আংশিক প্যানেল ভোট বর্জন করে।
পাশাপাশি কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী তাদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সাথে বর্জনকারী প্যানেলের প্রার্থীরা পুন:নির্বাচনের দাবি তুলেছেন।
বানচালের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ:
‘জাকসু নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে। এই ষড়যন্ত্রের ইদ্ধন দিচ্ছেন বিএনপিপন্থী দুই শিক্ষক’ এমন অভিযোগ করেছেন নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম।
আজ শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাকসু নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।
জাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনিরুজ্জামান আজ সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন, ম্যানুয়েল (হাতে গোনা) পদ্ধতিতেই চলছে জাকসুর ভোট গণনার কাজ। দ্রুত ফল প্রকাশের জন্য ইতোমধ্যে গণনার কাজের জন্য পোলিং অফিসার বৃদ্ধি করা হয়েছে। আজ রাতের মধ্যেই ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ডোপ টেস্টের ফলাফল ছাড়াই ভোট গ্রহণ:
নির্বাচনে অংশগ্রহন করা সকল প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক বলে গত ৮ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর ডোপ টেস্টের নমুনা সংগ্রহের জন্য আহ্বান করা হয়।
কিন্তু টেস্টের ফলাফল ছাড়াই ১১ সেপ্টেম্বর ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করা হয়।
প্রসঙ্গত: নির্বাচনে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, বামপন্থি সংগঠন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) ও স্বতন্ত্রসহ মোট আটটি প্যানেলে ভাগ হয়ে ৫৪৮ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৮৯৭ জন।
টিবিএম/জ/রা



