― Advertisement ―

হরমুজ প্রণালির সুরক্ষায় যুক্তরাজ্যের ১৫ কোটি ডলারের সামরিক প্যাকেজ; রণতরি এইচএমএস ড্রাগন মোতায়েন

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষা নিশ্চিতে এক বিশাল সামরিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। মঙ্গলবার (১২ মে, ২০২৬) ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এই বহুজাতিক মিশনে তারা অত্যাধুনিক ড্রোন, টাইফুন যুদ্ধবিমান এবং রয়্যাল নেভির শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ‘এইচএমএস ড্রাগন’ মোতায়েন করছে। প্রায় ৪০টিরও বেশি দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত একটি ভার্চুয়াল বৈঠকের পর লন্ডন এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই রুটে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিরসনই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই বিশেষ মিশনের জন্য নতুন করে ১১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড বা প্রায় ১৫ কোটি ২০ লাখ ডলারের তহবিল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই প্যাকেজের আওতায় স্বয়ংক্রিয় মাইন অপসারণ ব্যবস্থা এবং ড্রোন প্রতিরোধে সক্ষম বিশেষ ইউনিট মোতায়েন করা হবে। বিশেষ করে ‘মডুলার বিহাইভ সিস্টেম’ ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা স্বয়ংক্রিয় ‘ক্রাকেন ড্রোন বোট’ দ্বারা সজ্জিত। এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি জলপথে সম্ভাব্য যেকোনো হুমকি শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক পাল্টা ব্যবস্থা নিতে সক্ষম।

ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছে ব্রিটিশ রণতরি এইচএমএস ড্রাগন। জাহাজটিতে থাকা উন্নত ‘সি ভাইপার’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ঢাল হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি ওই অঞ্চলে অবস্থানরত ব্রিটিশ ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো নিয়মিত আকাশ টহল দিয়ে নজরদারি জোরদার করবে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হেইলে এই পদক্ষেপকে বৈশ্বিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তা ও মুক্ত বাণিজ্য রক্ষার প্রতি যুক্তরাজ্যের শক্তিশালী অঙ্গীকারের প্রতিফলন বলে অভিহিত করেছেন।

বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা যেকোনো ধরণের অস্থিতিশীলতার কারণে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুক্তরাজ্যের এক হাজারেরও বেশি সামরিক সদস্য সক্রিয় রয়েছেন। নতুন এই অভিযানে ড্রোন নিরোধক বিশেষ স্কোয়াড্রন যুক্ত হওয়ায় ব্রিটিশ সামরিক সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক এই জোটের মাধ্যমে জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলে আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন যুক্তরাজ্যের প্রধান লক্ষ্য।