মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে বাহরাইনে বড় ধরনের নিরাপত্তা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে গোপন সম্পৃক্ততা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪১ জনকে গ্রেফতার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। শনিবার (৯ মে ২০২৬) বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিশেষ বিবৃতিতে এই গণ-গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাহরাইনের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে বিদেশি শক্তির মদদপুষ্ট একটি চক্র সক্রিয় ছিল বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে কেবল আইআরজিসির সঙ্গে যোগাযোগ নয়, বরং বাহরাইনের ওপর সম্ভাব্য ইরানি হামলায় কথিত সমর্থন ও ইন্ধন দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব ব্যক্তি ‘বিদেশি শক্তির সঙ্গে ষড়যন্ত্র’ করে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাহরাইন সরকার অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার পাশাপাশি তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার নজিরবিহীন সিদ্ধান্তও ঘোষণা করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাহরাইনের এই পদক্ষেপ ইরানের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটাবে। বাহরাইন সরকার দীর্ঘকাল ধরেই তেহরানের বিরুদ্ধে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং শিয়া বিদ্রোহীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগ এনে আসছে। এবারের অভিযানে এত বিপুল সংখ্যক গ্রেফতার ও নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দেশটি তাদের জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করতে রাজি নয়। বিশেষ করে যখন আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নাজুক, তখন বাহরাইনের এমন অবস্থান প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলবে।
বর্তমানে বাহরাইনে ইরানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নজরদারি ও ধরপাকড় অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের চরমপন্থা রুখতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। নাগরিকত্ব বাতিল হওয়া ব্যক্তিদের রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাদের বহিষ্কারের সম্ভাবনাও রয়েছে। তেহরান অবশ্য এখন পর্যন্ত বাহরাইনের এই অভিযোগ বা গ্রেফতারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।



