একটি বিলাসবহুল ক্রুজ জাহাজে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাস এখন আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত এক ফরাসি নারীর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হওয়ায় বর্তমানে তাকে কৃত্রিম ফুসফুসের সহায়তায় বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সংক্রমণের ফলে তার ফুসফুস ও হৃদযন্ত্র বিকল হওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্যারিসের বিচা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই নারীকে ‘এক্সট্রাকর্পোরিয়াল মেমব্রেন অক্সিজেনেশন’ (ECMO) পদ্ধতিতে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে, যা মূলত লাইফ-সাপোর্টের চূড়ান্ত পর্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই প্রাদুর্ভাবের সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। এখন পর্যন্ত ‘এমভি হন্ডিয়াস’ নামক ওই ডাচ ক্রুজ জাহাজের ১১ জন যাত্রী ও ক্রুর মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে নয়জনের ক্ষেত্রে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেছে। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, এই প্রাদুর্ভবে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন ডাচ দম্পতি রয়েছেন, যারা দক্ষিণ আমেরিকা ভ্রমণের সময় কোনোভাবে এই ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভাইরাসটির সংক্রমণ ঠেকাতে জাহাজ কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আক্রান্ত জাহাজটি থেকে সব যাত্রী ও অধিকাংশ ক্রু সদস্যকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি নেদারল্যান্ডসের বন্দরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে সেটিকে সম্পূর্ণভাবে জীবাণুমুক্ত বা স্যানিটাইজ করা হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস জানিয়েছেন যে, এই ভাইরাসটির ইনকিউবেশন পিরিয়ড বা লক্ষণ প্রকাশের সময়কাল বেশ দীর্ঘ। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও বর্তমানে বড় কোনো বৈশ্বিক মহামারীর আশঙ্কা নেই।
সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর বর্জ্য থেকে হান্টাভাইরাস ছড়ালেও এবারের প্রাদুর্ভাবে ‘অ্যান্ডিজ ভাইরাস’ নামক একটি বিশেষ স্ট্রেইন শনাক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই নির্দিষ্ট ভাইরাসটি বিরল ক্ষেত্রে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বর্তমানে সংক্রমণের উৎস নিশ্চিত করতে নিবিড় অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই ধরনের ভাইরাসের বিস্তার রোধে ক্রুজ জাহাজগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি আরও কঠোর করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।



