ফেনীতে একটি সাজানো ধর্ষণ মামলায় কারাবরণকারী নিরপরাধ ইমাম ও মক্তব শিক্ষক মোজাফফর আহমদ জুবায়েরের হারানো চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া এবং যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শনিবার (৯ মে ২০২৬) ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির পক্ষ থেকে এই দাবি তোলা হয়। নেতারা অভিযোগ করেন, সুনির্দিষ্ট ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে একজন আলেমকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে, যার বিচার হওয়া এখন সময়ের দাবি।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা বলেন, ইমাম মোজাফফর কেবল আইনি লড়াইয়েই জয়ী হননি, বরং তিনি একটি গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার। মিথ্যা মামলার কারণে তাঁর যে সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা অপূরণীয়। তিনি ঘোষণা করেন, এনসিপি কেবল আইনি দাবিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ভুক্তভোগী ইমামের ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধ এবং তাঁকে সসম্মানে পুনর্বাসিত করার দায়িত্বও গ্রহণ করবে। আলেমদের প্রতি বিদ্বেষপ্রসূত হয়ে যারা এ ধরনের জঘন্য কাজ করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত এনসিপির ফেনী জেলা আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকত তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ইমাম মোজাফফরের দুঃসময়ে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর মতো কাউকেই পাওয়া যায়নি। এনসিপি মনে করে, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক অবিচারের শিকার না হন। ইমামের মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে তাঁর পূর্বের কর্মস্থল পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁর ক্ষতির খতিয়ান বিবেচনা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।
এ সময় ভুক্তভোগী ইমাম মোজাফফর আহমদ জুবায়ের নিজের ওপর হওয়া অমানবিক ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সংবাদ সম্মেলনে দলটির জেলা ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থেকে ইমামের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আলেম সমাজের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষায় তারা দেশজুড়ে জনমত গড়ে তুলবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি এমন ষড়যন্ত্রের শিকার না হন।



