ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা গভীর সংকটে পড়ার প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার শরণাপন্ন হয়েছে ইরান। সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে পৌঁছেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, এই সফরে আরাঘচি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হবেন। পশ্চিমের সঙ্গে তেহরানের দূরত্ব যখন ক্রমান্বয়ে বাড়ছে, তখন মস্কোর সঙ্গে এই উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগকে বৈশ্বিক রাজনীতির নতুন মেরুকরণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনা বর্তমানে সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার মুখে। বিশেষ করে পাকিস্তানে নির্ধারিত কূটনৈতিক বৈঠকটি শেষ মুহূর্তে ভেস্তে যাওয়ায় আঞ্চলিক উত্তজনা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। পাকিস্তানের সেই প্রস্তাবিত আলোচনা বাতিলের পর ইরান এখন রাশিয়ার সঙ্গে তার কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করতে চাইছে। আব্বাস আরাঘচির এই সফর মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পাল্টা চাপ সৃষ্টি এবং রাশিয়ার কাছ থেকে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা আদায়ের একটি সুদূরপ্রসারী প্রচেষ্টা।
রাশিয়া ও ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই সফরের মূল আলোচ্য বিষয় হবে দ্বিপাক্ষিক সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা এবং পরমাণু চুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটনের অনমনীয় অবস্থানের বিপরীতে রাশিয়ার সমর্থন নিশ্চিত করা তেহরানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে আরাঘচির এই সরাসরি বৈঠক প্রমাণ করে যে, ইরান এখন পশ্চিমের বিকল্প হিসেবে ‘ইউরেশীয় অক্ষ’ গড়ে তুলতে অনেক বেশি আগ্রহী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর কেবল একটি নিয়মিত কূটনৈতিক সফর নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি কড়া বার্তা। তেহরান বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন যদি আলোচনার টেবিলে ইতিবাচক সাড়া না দেয়, তবে ইরান রাশিয়ার সঙ্গে তার সামরিক ও রাজনৈতিক মৈত্রী আরও গভীরে নিয়ে যাবে। সেন্ট পিটার্সবার্গের এই আলোচনার ফলাফল আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামো এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



