― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

একনেকে ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার ১৪ প্রকল্প পাস; নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দেশের অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতের উন্নয়নে এক বিশাল বিনিয়োগ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। রবিবার (২৬ এপ্রিল ২০২৬) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মোট ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৪টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই বিশাল বাজেটের একটি বড় অংশ অর্থাৎ ৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি জোগান দেবে বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে। বাকি অর্থায়ন আসবে প্রকল্প ঋণ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৫টি সম্পূর্ণ নতুন উদ্যোগ, বাকিগুলো সংশোধন ও মেয়াদ বৃদ্ধির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামের নগর স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটাতে পার্বত্য তিন জেলায় সীমান্ত সড়ক নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়), বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর মহাসড়ক উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথ সংস্কার প্রকল্পগুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ময়মনসিংহে জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ এবং মাগুরা পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথ সম্প্রসারণের মাধ্যমে আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি আরও শক্তিশালী হবে।

এবারের একনেক সভার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো উন্নয়ন কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের কঠোর বার্তা। তিনটি সড়ক প্রকল্পের মেয়াদ পাঁচবার বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এর কারণ অনুসন্ধানে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের আরও ৩৩টি ছোট প্রকল্প পরিকল্পনামন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদনের বিষয়টিও সভায় অবহিত করা হয়। সরকারের এই পদক্ষেপ প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা কমানোর একটি শক্তিশালী সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যবৃন্দ। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রকল্পগুলো সময়মতো বাস্তবায়িত হলে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। বিশেষ করে সীমান্ত সড়ক ও রেলওয়ের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।