― Advertisement ―

মস্কো ও মাস্কট হয়ে ইসলামাবাদ যাচ্ছেন আরাঘচি; সোমবার মুখোমুখি হচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দ্বিতীয় দফা ঐতিহাসিক বৈঠকে বসার আগে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। আগামী সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) সম্ভাব্য এই সরাসরি আলোচনার আগে তিনি ওমান ও রাশিয়া সফর করবেন। তেহরানের কৌশলগত মিত্র মস্কো এবং দীর্ঘদিনের মধ্যস্থতাকারী মাস্কটের সাথে বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনার রূপরেখা নিয়ে পরামর্শ করাই এই ঝটিকা সফরের মূল উদ্দেশ্য। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি এই মিশনের অংশ হিসেবে তেহরান ত্যাগ করেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এবং ডন-এর তথ্য অনুযায়ী, ইসলামাবাদের এই দ্বিতীয় দফার বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সোমবারের এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দিতে পারেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকভ। সরাসরি বৈঠকে বসার আগে মার্কিন প্রতিনিধিরা পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের সাথে পৃথক বৈঠক করবেন। অন্যদিকে, আরাঘচি শনি ও রবিবার পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা ও শর্তাবলী মূল্যায়ন করবেন।

এই আলোচনার প্রেক্ষাপট অত্যন্ত করুণ ও জটিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনীর হামলায় ইরানে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বড় একটি অংশ বেসামরিক নাগরিক। ইরানের লিগাল মেডিসিন অর্গানাইজেশনের তথ্য মতে, ২৬ হাজারেরও বেশি মানুষ এই যুদ্ধে আহত হয়েছেন। এই ধ্বংসযজ্ঞের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই একটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে পৌঁছানোই এখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রধান লক্ষ্য।

এর আগে ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে প্রথম দফার সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে সেই বৈঠক থেকে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা আসেনি। আব্বাস আরাঘচির বর্তমান সফর এবং রাশিয়ার সাথে পরামর্শ ইরানকে আলোচনার টেবিলে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৈশ্বিক তেল বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এখন সোমবারের এই ‘ইসলামাবাদ সংলাপের’ ওপর নির্ভর করছে।