ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) রাতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। সংগঠনটির নেতাকর্মীরা রাত ৮টার দিকে উপাচার্য (ভিসি) চত্বরে জমায়েত হন এবং সেখান থেকে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে ডাকসু ভবনের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। বিক্ষোভকারীরা জুলাই পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসে পুনরায় ‘মব কালচার’ ও ‘হল দখলের’ রাজনীতির বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান দেন।
সমাবেশে ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত ১৬ বছর ধরে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষায় কাজ করেছেন, সেই সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি দাবি করেন, বিগত স্বৈরাচারী আমলেও একদিনে এত বেশিসংখ্যক সংবাদকর্মী আহত হওয়ার ঘটনা বিরল ছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে রক্ষা করতে গিয়ে শাহবাগ থানায় ডাকসু নেতারাও আহত হয়েছেন। ক্যাম্পাসে ‘আদু ভাইদের’ (ছাত্রত্ব শেষ হওয়া নেতাকর্মী) পুনর্বাসন করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ত্রাস সৃষ্টি করার অপচেষ্টা রুখে দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক জিএস এস এম ফরহাদ তার বক্তব্যে ছাত্রদলের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ছাত্রদলের বর্তমান কর্মকাণ্ড দেখে মনে হয় তারা এখনো নব্বইয়ের দশকের মান্ধাতা আমলের রাজনীতিতে আটকে আছে। পাবনার ঈশ্বরদী কলেজে শিবিরের ওপর হামলার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ছাত্রদল পরিকল্পিতভাবে ন্যারেটিভ তৈরি করে ক্যাম্পাস দখলের চেষ্টা করছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যকে সতর্ক করে বলেন, তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি ইতিহাসে একজন সফল উপাচার্য হবেন নাকি দায়ভার নিয়ে পালিয়ে যাওয়া ব্যর্থ ভিসিদের কাতারে নাম লেখাবেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন, হত্যার হুমকি পেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলেও পুলিশ তাকে উল্টো এক রাত বসিয়ে রেখে হয়রানি করেছে। তিনি দাবি করেন, ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতির নেতৃত্বে একদল কর্মী তাকে থানার ভেতরেই হুমকি দিয়েছে। তিনি পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ৫ আগস্টের পর পুলিশ বাহিনীর মানসিকতায় কোনো পরিবর্তন আসেনি; তারা কেবল এক দলের অনুগত থেকে অন্য দলের অনুগত বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। অবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।



