ইরানের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির প্রভাব খর্ব করতে নতুন এক বড় পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ঘোষণা করেছেন যে, ইরান সংশ্লিষ্ট প্রায় ৩৪ কোটি ৪০ লাখ (৩৪৪ মিলিয়ন) ডলার মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রা জব্দ করা হয়েছে। তেহরানের অর্থায়নের উৎসগুলো বন্ধ করতে মার্কিন অর্থ বিভাগের (ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট) ‘সর্বোচ্চ চাপ’ (Maximum Pressure) প্রয়োগের কৌশলের অংশ হিসেবে এই বিশাল পরিমাণ তহবিল ফ্রিজ করা হলো। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটানোর আশঙ্কার মুখে ইরানকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন অর্থ বিভাগের অফিস অব ফরেন অ্যাসেট কন্ট্রোল (OFAC) ইরানের সাথে সম্পৃক্ত একাধিক ডিজিটাল ওয়ালেট বা অ্যাকাউন্টের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে, তেহরান যাতে বিদেশের মাটি থেকে তহবিল সংগ্রহ, স্থানান্তর কিংবা দেশে টাকা ফিরিয়ে নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই ক্রিপ্টো-অপারেশন চালানো হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা ইরানের ছদ্মবেশী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ পাচারের প্রতিটি রাস্তা বন্ধ করে দেব এবং শাসনের সাথে জড়িত প্রতিটি আর্থিক লাইফলাইন আমাদের লক্ষ্যবস্তু হবে।”
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরান ঐতিহাসিকভাবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে বিভিন্ন ‘শেল কোম্পানি’ বা ছদ্মবেশী প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে আসলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা ডিজিটাল মুদ্রার দিকে ঝুঁকেছে। ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (IRGC) নিয়ন্ত্রণে থাকা ডিজিটাল ওয়ালেটগুলো থেকে প্রতি মাসে কয়েক মিলিয়ন ডলারের লেনদেন হয়ে থাকে। ওয়াশিংটন এখন কেবল প্রথাগত ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমেই নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তির সব অলিগলি বন্ধ করতে বিভিন্ন ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
এই জব্দকৃত তহবিলের একটি বড় অংশই জনপ্রিয় স্টেবলকয়েন ‘টেথার’ (USDT)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট বলে জানা গেছে। টেথার লিমিটেড জানিয়েছে, তারা মার্কিন কর্তৃপক্ষের অনুরোধে ইতোমধ্যে দুটি বড় ওয়ালেট ফ্রিজ করেছে। ইরান যখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কারের যাতায়াত ফি হিসেবে বিটকয়েন গ্রহণ করার মতো বিকল্প পথ খুঁজছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘ডিজিটাল স্ট্রাইক’ তেহরানের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পদক্ষেপটি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সমর্থিত মিলিশিয়াদের তহবিল জোগানোর ক্ষমতাকেও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


