― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

মেট্রোরেলের তারে গ্যাস বেলুন: ১৫ মিনিট স্থবির ছিল যাতায়াত, সচেতনতার আহ্বান ডিএমটিসিএল-এর

পয়লা বৈশাখের উৎসবের দিনে রাজধানীর যাতায়াতের অন্যতম লাইফলাইন মেট্রোরেল এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিড়ম্বনার শিকার হয়েছে। কারওয়ান বাজার এলাকায় মেট্রোরেলের ওভারহেড ক্যাটেনারি সিস্টেম বা বৈদ্যুতিক লাইনে একটি গ্যাস বেলুন আটকে যাওয়ায় প্রায় ১৫ মিনিট ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল ২০২৬) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে এই বিঘ্ন ঘটে, যার ফলে স্টেশনে অপেক্ষারত যাত্রীদের সাময়িক ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্টেশন সূত্র জানিয়েছে, দুপুর ১টার দিকে হঠাৎ ট্রেন চলাচল থেমে যায়। কারওয়ান বাজার স্টেশনের কাছাকাছি বৈদ্যুতিক তারে একটি রঙিন গ্যাস বেলুন জড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। যেহেতু মেট্রোরেল উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ লাইনের মাধ্যমে চলে, তাই তারে যেকোনো ধরনের বাহ্যিক বস্তু আটকে যাওয়া বড় ধরনের শর্ট সার্কিট বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে। এই নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে কর্তৃপক্ষ তৎক্ষণাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এর কারিগরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় ১৫ মিনিটের প্রচেষ্টায় ১টা ১০ মিনিটের দিকে বৈদ্যুতিক লাইন থেকে বেলুনটি অপসারণ করা হয়। এরপর পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হলে ১টা ১০ মিনিটে স্বাভাবিক হয় ট্রেন চলাচল। যদিও বিঘ্নটি মাত্র ১৫ মিনিটের ছিল, তবে উৎসবের দিনে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপের কারণে স্টেশনে মুহূর্তের মধ্যেই ভিড় জমে যায়।

এ বিষয়ে ডিএমটিসিএলের পরিচালক এ কে এম খায়রুল আলম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “গ্যাস বেলুন আটকে যাওয়ার কারণে প্রায় ১৫ মিনিট মেট্রো বন্ধ ছিল। আমরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ত্রুটি সমাধান করেছি। তবে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতার অভাব আমাদের বারবার দুশ্চিন্তায় ফেলছে। মেট্রোপথ সংলগ্ন এলাকায় উড়ন্ত বস্তু ওড়ানো বা গ্যাস বেলুন ওড়ানো যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তা সাধারণ মানুষকে বুঝতে হবে।”

মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ বারবার সতর্কবার্তা জারি করলেও উৎসবে আমেজে মেতে ওঠা নাগরিকরা অনেক সময় নিয়ম মানছেন না। বিশেষ করে রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় মেট্রোপথ সংলগ্ন ভবনগুলো থেকে ঘুড়ি ওড়ানো বা বেলুন ওড়ানোর ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। এর আগে ফানুস বা ঘুড়ির সুতা আটকে যাওয়ার কারণেও একাধিকবার মেট্রোরেল বন্ধ রাখতে হয়েছিল।

আজকের এই ঘটনার পর মেট্রোরেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। রেলের বৈদ্যুতিক তার বা ‘ওভারহেড ক্যাটেনারি’র সাথে কোনো ধাতব বস্তু বা গ্যাস বেলুনের সংস্পর্শ বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি ঘটাতে পারে। এমনকি ট্রেনের মূল্যবান বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থেই কর্তৃপক্ষ কোনো ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত ট্রেন থামিয়ে দেয়।

পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে আজ রাজধানীর রাস্তাগুলোতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। যানজট এড়িয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে অনেক মানুষ মেট্রোরেলকে বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু এই ১৫ মিনিটের বিরতি অনেক যাত্রীর গন্তব্যে পৌঁছাতে দেরি করে দেয়। উত্তরা থেকে মতিঝিলগামী এক যাত্রী জানান, “উৎসবের দিনে এমন ভোগান্তি কাম্য নয়। মানুষের অসচেতনতার দায় কেন পুরো শহরবাসীকে নিতে হবে?”

ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেট্রোরেলের দুই পাশে নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে ঘুড়ি, ফানুস বা গ্যাস বেলুন ওড়ানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আইনগতভাবে এটি দণ্ডনীয় অপরাধও হতে পারে যদি এর ফলে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। সংস্থাটি আবারও ঢাকাবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে, যেন মেট্রোরেলের সংবেদনশীল বৈদ্যুতিক লাইনের আশেপাশে কেউ এসব কর্মকাণ্ড না করেন।

পরিশেষে বলা যায়, মেট্রোরেল আমাদের জাতীয় সম্পদ। এর সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করা কেবল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নয়, বরং সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের নৈতিক কর্তব্য। আজকের এই ১৫ মিনিটের বিঘ্ন আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, সামান্য একটু অসতর্কতা কীভাবে আধুনিক যাতায়াত ব্যবস্থাকে অচল করে দিতে পারে। জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া মেট্রোরেলের নিরবচ্ছিন্ন সেবা বজায় রাখা কঠিন।