― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর ওপর অটোরিকশাচালকের হামলা: তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) এক শিক্ষার্থীকে অটোরিকশাচালকের মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল ২০২৬) বিকেল চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত ভাড়া দাবির প্রতিবাদ করায় মেরিন সায়েন্স বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এর প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনের সড়ক প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন।

বিকেল চারটা থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধের ফলে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ ও প্রবেশপথের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। পয়লা বৈশাখের উৎসবে মুখরিত ক্যাম্পাসে এই ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা অটোরিকশাচালকদের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ যাতায়াত ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

হামলার শিকার মেহেদী হাসানকে দ্রুত উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। চবি মেডিকেল সেন্টারের দায়িত্বরত চিকিৎসক মোস্তফা কামাল হোসেন জানিয়েছেন, আহত শিক্ষার্থীর মুখ, হাত, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানা যায়, বেলা সাড়ে তিনটার দিকে মেহেদী হাসান বিশ্ববিদ্যালয় গোলচত্বর থেকে ১ নম্বর গেটে যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে ক্যাম্পাসে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হওয়ায় অটোরিকশাচালকরা ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছিলেন। মেহেদী এই বাড়তি ভাড়া দাবির প্রতিবাদ করলে চালক তাঁর ওপর চড়াও হন এবং একপর্যায়ে মারধর শুরু করেন।

মারধরের খবরটি ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীরা দ্রুত জড়ো হয়ে মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে তাঁরা বিক্ষোভ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে মূল সড়ক অবরোধ করে দেন। অবরোধ চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান, সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) মো. কামাল উদ্দিন এবং প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

অবরোধকারী শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—মেহেদী হাসানের ওপর হামলাকারী অটোরিকশাচালককে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট থেকে জিরো পয়েন্ট (মূল ফটক) পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করা এবং ১ নম্বর গেট এলাকায় স্থায়ী পুলিশ বক্স স্থাপন করে নিরাপত্তা জোরদার করা।

অবরোধস্থলে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভূঞা। তিনি অভিযোগ করেন, উৎসবের দিনগুলোতে বহিরাগত ও দর্শনার্থীদের চাপে সাধারণ শিক্ষার্থীদের যাতায়াত একপ্রকার জিম্মি হয়ে পড়ে। অটোরিকশাচালকরা এই সুযোগে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে। আজকের এই অবরোধ মূলত দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে সেগুলো পূরণের লিখিত আশ্বাস দেন। উপাচার্যের এই আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে সরে যান এবং অবরোধ তুলে নেন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ক্যাম্পাসে ফিরে আসে স্বাভাবিক পরিস্থিতি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. কামরুল হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে। হামলাকারী চালককে শনাক্ত করার কাজ চলছে এবং নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

পরিশেষে বলা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং যাতায়াতের ভোগান্তি নিরসনে চক্রাকার বাস সার্ভিস ও পুলিশ বক্সের দাবিটি অত্যন্ত যৌক্তিক। উৎসবের দিনগুলোতে শিক্ষার্থীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জন্য এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত না হলে তাঁরা পুনরায় কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন।