― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন আশার আলো: হাম প্রতিরোধী টিকার দ্বিতীয় ধাপের সূচনা

দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সংক্রামক ব্যাধির হাত থেকে রক্ষা করার প্রত্যয় নিয়ে শুরু হলো হাম সংক্রমণ নিরোধক টিকাদান কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়। রোববার (১২ এপ্রিল ২০২৬) রাজধানীর জনাকীর্ণ মোহাম্মদপুর এলাকার মাতৃসদন ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্যমূলক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনা করা হয়। বর্তমান সময়ে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর যৌথ প্রচেষ্টায় এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং বিশ্বব্যাংকের সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। বর্তমানে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর উপস্থিতিতে মোহাম্মদপুর মাতৃসদনে সকাল থেকেই অভিভাবকদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এই কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা ও উপযোগিতা নিয়ে তিনি আলোচনা করেন।

সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই পর্যায়ের কর্মসূচিতে ৬ মাস থেকে শুরু করে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুর জন্য এই টিকা গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক ও অত্যন্ত জরুরি। এর আগে গত ৫ এপ্রিল সারাদেশে একযোগে প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম ধাপের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে দ্বিতীয় ধাপকে আরও সুশৃঙ্খল ও ব্যাপক আকারে সাজানো হয়েছে।

ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে কার্যক্রমটি শুরু হলেও এটি কেবল রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি মহানগরী ও বড় বড় শহরগুলোতে এই কর্মসূচি বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শহর অঞ্চলের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে বিধায় মহানগরীগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ধাপে ধাপে দেশের সকল প্রান্তে প্রতিটি শিশুর কাছে এই টিকা পৌঁছে দেওয়াই কর্তৃপক্ষের মূল লক্ষ্য।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হচ্ছে। এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), ইউনিসেফ (UNICEF) এবং টিকা সহায়তা জোট গ্যাভি (Gavi)। আন্তর্জাতিক এই অংশীদারিত্ব প্রমাণ করে যে, শিশুদের সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে বাংলাদেশ বৈশ্বিক উদ্যোগের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।

উদ্বোধনী বক্তৃতায় ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার হামের ভয়াবহতা সম্পর্কে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, হাম অত্যন্ত দ্রুত সংক্রামক একটি রোগ যা সঠিক সময়ে প্রতিরোধ না করলে শিশুর শারীরিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। তবে আশার কথা হলো, সঠিক সময়ে টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এটি শতভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তিনি আরও যোগ করেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষা কোনো দলীয় বিষয় নয়, বরং এটি একটি জাতীয় দায়িত্ব।

অভিভাবকদের সচেতনতার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ড. হায়দার উপস্থিত সকল মা-বাবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবহেলা বা ভীতি থেকে দূরে থেকে প্রতিটি শিশুকে টিকা কেন্দ্রে নিয়ে আসা উচিত। নির্ধারিত সময়সূচির মধ্যে টিকা প্রদান নিশ্চিত করা গেলে আমরা একটি হামমুক্ত সমাজ গড়তে পারব। তাঁর এই আহ্বান সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়। সরকার ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় লোকবল ও লজিস্টিক সাপোর্ট প্রদান করেছে। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যারা দ্রুততার সাথে এবং নিরাপদে টিকাদান সম্পন্ন করছেন। অস্থায়ী ক্যাম্পগুলোতেও সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে টিকা কার্যক্রম চলছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত টিকাদানের বিকল্প নেই। বিশেষ করে যারা প্রথম পর্যায়ে টিকা দিতে পারেননি, তাদের জন্য এই দ্বিতীয় পর্যায় একটি বিশাল সুযোগ। সরকার ও সহযোগী সংস্থাগুলো আশা প্রকাশ করছে যে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে হাম সংক্রমণের চেইন ভেঙে ফেলা সম্ভব হবে। প্রতিটি শিশুর সুস্থতা ও সুন্দর জীবনের নিশ্চয়তা দিতে এই উদ্যোগ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

পরিশেষে, ঝালকাঠি থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি জনপদে এই বার্তার প্রচার প্রয়োজন। অভিভাবকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে যে, তারা যেন দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা নির্ধারিত টিকাদান বুথে যোগাযোগ করেন। কোনো শিশু যেন এই জীবনরক্ষাকারী টিকার আওতায় আসা থেকে বাদ না পড়ে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। সুস্থ শিশু মানেই আগামীর সুস্থ ও সবল বাংলাদেশ।