― Advertisement ―

কুয়েতের তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা; ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ব্যাহত উৎপাদন

উপসাগরীয় দেশ কুয়েতের অন্যতম বৃহত্তম তেল শোধনাগার ‘মিনা আল-আহমাদি’ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল ২০২৬) ভোরে এই অতর্কিত হামলায় শোধনাগারের বেশ কয়েকটি ইউনিটে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (KPC) জানিয়েছে, ড্রোনগুলো শোধনাগারের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াকরণ ইউনিটগুলোকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে। কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘কুনা’ (KUNA) নিশ্চিত করেছে যে, অগ্নিনির্বাপক বাহিনী ও জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে।

ঘটনার পরপরই কুয়েত জুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে এবং আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী বেশ কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এই হামলার পেছনে কারা জড়িত বা কোথা থেকে এই ড্রোনগুলো উৎক্ষেপণ করা হয়েছে, সে সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের চলমান সংঘাতের রেশ এখন কুয়েতের জ্বালানি খাতের ওপর আছড়ে পড়ল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কুয়েতের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ বাহরাইনেও ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার সকালে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে সাইরেন বাজিয়ে বাসিন্দাদের দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। যদিও বাহরাইন সরকার বিস্তারিত কিছু জানায়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে সম্ভাব্য আকাশপথের হামলার আশঙ্কায় এই আগাম সতর্কতা। গোটা উপসাগরীয় অঞ্চল এখন এক অজানা যুদ্ধের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

মিনা আল-আহমাদি রিফাইনারি কুয়েতের অর্থনীতি ও বিশ্ব তেলের বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই হামলার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার এবং দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। কুয়েত সরকার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জরুরি কেবিনেট মিটিং ডেকেছে। উদ্ধার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত শোধনাগারের ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিটগুলোর উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে।