দীর্ঘ পাঁচ বছরের সামরিক শাসনের পর মিয়ানমারের জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। শুক্রবার (৩ এপ্রিল ২০২৬) আয়োজিত এক সংসদীয় ভোটে বিজয়ী হয়ে তিনি নিজের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে পূর্ণতা দিলেন। এর মাধ্যমে ২০২১ সালের রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পর নিজের একক ক্ষমতাকে আইনি ও দাপ্তরিক রূপ দিলেন এই ৬৯ বছর বয়সী জেনারেল। তবে এই নির্বাচন ও সংসদীয় প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও পশ্চিমা দেশগুলো শুরু থেকেই ‘প্রহসন’ ও ‘গণতন্ত্রের অপমৃত্যু’ বলে অভিহিত করে আসছে।
সামরিক বাহিনী সমর্থিত ‘ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ (ইউএসডিপি) সাম্প্রতিক নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পাওয়ায় হ্লাইংয়ের জন্য এই পথ আরও সুগম হয়। সমালোচকদের মতে, সেনাবাহিনী মনোনীত সদস্যদের দিয়ে গঠিত পার্লামেন্টে এই ভোট গ্রহণ ছিল মূলত একটি সাজানো নাটক, যার মাধ্যমে সামরিক শাসনকে বেসামরিক লেবাস দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ক্ষমতার এই পালাবদলের অংশ হিসেবে হ্লাইং তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একজনকে নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন, যাতে একই সাথে সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ শাসনভার তাঁর কবজায় থাকে।
তবে প্রাসাদে বসে ক্ষমতা সুসংহত করলেও বাইরের পরিস্থিতি হ্লাইংয়ের জন্য মোটেও অনুকূল নয়। মিয়ানমারের বিভিন্ন প্রান্তে জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও পিডিএফ (পিপলস ডিফেন্স ফোর্স) সম্মিলিতভাবে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিরোধ অব্যাহত রেখেছে। জান্তা বিরোধী এই নতুন জোটের লক্ষ্য কেবল হ্লাইংয়ের পদত্যাগ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে সামরিক একনায়কতন্ত্রের মূলোৎপাটন করে একটি ফেডারেল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। ফলে দেশটিতে চলমান গৃহযুদ্ধ থামা তো দূরে থাক, তা আরও ভয়াবহ মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নব্য এই প্রেসিডেন্ট এখন আঞ্চলিক জোট আসিয়ান এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে বৈধতা পাওয়ার চেষ্টায় কূটনীতিতে জোর দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমন এবং তলানিতে ঠেকে যাওয়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করাই হবে তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মিন অং হ্লাইং সেনাপ্রধান থেকে প্রেসিডেন্ট হলেও মিয়ানমারের সাধারণ মানুষের জীবনে শান্তির সুবাতাস বইবে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় রয়েই গেছে। এই নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এক অস্থির স্থিতাবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।



