মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ থেকে যুদ্ধের ঘনঘটা কিছুটা হলেও সরতে শুরু করেছে। ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিধ্বংসী হামলার আল্টিমেটাম দেওয়ার পর হঠাৎ সুর নরম করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২৩ মার্চ) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, আগামী পাঁচ দিনের জন্য ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে সব ধরনের সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, তেহরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা ‘ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ হওয়ায় তিনি এই নমনীয় অবস্থান নিয়েছেন।
তবে ওয়াশিংটনের এই দাবি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি করেছে তেহরান। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘ফারস নিউজ’ দেশটির একটি শীর্ষ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষ কোনো আলোচনা হয়নি। বরং ইরানের পাল্টাহুমকির মুখে ট্রাম্প পিছু হটেছেন বলেই তেহরানের দাবি। এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত না করলে ইরানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। জবাবে ইরানও ঘোষণা করেছিল যে, এমন কিছু হলে মধ্যপ্রাচ্যের সমস্ত মার্কিন মালিকানাধীন জ্বালানি স্থাপনা ধ্বংস করা হবে এবং সমুদ্রপথে মাইন বিছিয়ে দেওয়া হবে।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও এলএনজি পরিবহনের একমাত্র পথ হরমুজ প্রণালী গত ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যত স্থবির হয়ে আছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ইতিমধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ট্রাম্পের এই পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতি মূলত বিশ্ব অর্থনীতিকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে বিতর্ক চলছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, হামলার স্থগিতাদেশ বজায় থাকা নির্ভর করছে আলোচনার সাফল্যের ওপর।
বর্তমানে উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। একদিকে ট্রাম্প আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথা বলছেন, অন্যদিকে ইরান সেই আলোচনার অস্তিত্বই অস্বীকার করছে। আগামী এক সপ্তাহ এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।



