মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র এখন চরম উত্তপ্ত। ইরানের ছোঁড়া শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরায়েলের তেল আবিব, আরাদ ও দিমোনা শহর লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। শনিবার (২১ মার্চ) রাতে চালানো এই অতর্কিত হামলায় অন্তত ২০০ জন ইসরায়েলি নাগরিক আহত হয়েছেন, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারলেও দিমোনা ও আরাদ শহরে সরাসরি আঘাত হানা ভারী ওয়ারহেডগুলো ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে বেশ কিছু আবাসিক ভবন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।
ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, আরাদ শহরেই আহত হয়েছেন ১১৬ জন। অন্যদিকে দিমোনা শহরের অবস্থা আরও ভয়াবহ, যেখানে পারমাণবিক স্থাপনার মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে আঘাত হেনেছে ইরানি মিসাইল। ইরান দাবি করেছে, তাদের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ নিতেই দিমোনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। দিমোনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়াদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস এখনো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তেল আবিবের আয়ালোন হাইওয়েতেও ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
সংঘাতের আঁচ লেগেছে উত্তর সীমান্তেও। লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর ছোঁড়া ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ওফের মস্কোভিৎজ নামে এক কৃষি খামার ব্যবস্থাপক নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত কঠিন সময়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলে নিহতের সংখ্যা ১৬-তে দাঁড়িয়েছে এবং আহতের সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়েছে। পাল্টাপাল্টি এই হামলা অঞ্চলটিকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।



