― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

ট্রেনের ইঞ্জিনে পিষ্ট বাস; ধ্বংসস্তূপের নিচে মা-মেয়েসহ ১২ জনের মৃত্যু

কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে শনিবার গভীর রাতের সেই বিকট শব্দ এখনো তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে দৈয়ারা গ্রামের বাসিন্দাদের। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনে ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে যাওয়া একটি বাসের ভেতর থেকে যখন একে একে ১২টি নিথর দেহ বের করে আনা হচ্ছিল, তখন পুরো এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল স্বজনহারাদের আর্তনাদে। রোববার সকালে দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, রেললাইনের পাথরে পাথরে এখনো লেগে আছে ছোপ ছোপ তাজা রক্ত। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে যাত্রীদের ফেলে যাওয়া পানির বোতল, মিষ্টির প্যাকেট আর রক্তভেজা জুতো।

উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া স্থানীয় তরুণ আরিফুল ইসলাম বর্ণনা দিচ্ছিলেন সেই বিভীষিকার। তিনি বলেন, “বাসের ভেতর তখনো কয়েকজন শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তাঁদের আর্তনাদ ভোলার মতো নয়।” ট্রেনটি বাসটিকে ধাক্কা দিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার টেনে হিঁচড়ে দৈয়ারা গ্রাম পর্যন্ত নিয়ে আসে। উদ্ধারকর্মীরা যখন পৌঁছান, তখন দেখেন ট্রেনের ইঞ্জিনটি বাসের মাঝ বরাবর ঢুকে আছে। গ্রামের সাধারণ মানুষ ফায়ার সার্ভিস বা অ্যাম্বুলেন্সের অপেক্ষা না করে নিজেদের জীবন বাজি রেখে বাসের জানলা ভেঙে আহতদের বের করে আনেন।

আরেক উদ্ধারকর্মী জামাল হোসেনের চোখেমুখে এখনো আতঙ্কের ছাপ। তিনি জানান, উদ্ধারকাজ করতে গিয়ে তাঁর গায়ের জামা রক্তে ভিজে গিয়েছিল। নিছক কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি গেটম্যানের অবহেলা—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও স্থানীয়দের ক্ষোভের প্রধান কারণ ছিল প্রশাসনের ধীরগতি। অভিযোগ উঠেছে, দুর্ঘটনার পর ৯৯৯ বা ফায়ার সার্ভিসে বারবার যোগাযোগ করেও প্রায় দুই ঘণ্টা কোনো সাড়া মেলেনি। ততক্ষণে অনেক যাত্রী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

এই দুর্ঘটনায় মা ও তাঁর দুই মেয়েসহ একই পরিবারের একাধিক সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মালামাল এখনো দুর্ঘটনাস্থলে পড়ে আছে, যা দেখে স্থানীয়দের চোখের পানি বাঁধ মানছে না। বাসের ভেতরে রক্তমাখা সিট আর ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়া ফ্যানগুলো সাক্ষ্য দিচ্ছে সেই মুহূর্তের ভয়াবহতার। এই ট্র্যাজেডি কুমিল্লাবাসীকে দীর্ঘকাল শোকের ছায়ায় আচ্ছন্ন করে রাখবে।