কাতারের অন্যতম প্রধান জ্বালানি কেন্দ্র ‘রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি’-তে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সিএনএন-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতার থেকে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানির ওপর অতি-নির্ভরশীলতার কারণে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেতে পারে। এই দেশগুলোর নিজস্ব গ্যাস মজুত সীমিত হওয়ায় এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাস লাফানের গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বন্দর সুবিধার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কাতার বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে এবং এর সিংহভাগই রপ্তানি হয় এই কেন্দ্রটি থেকে। হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় এবং উৎপাদন স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই কেন্দ্র পুনরায় সচল করা সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়েছে।
সংকট কেবল গ্যাসে সীমাবদ্ধ নয়; রাস লাফানে উৎপাদিত ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া সার সরবরাহ ব্যাহত হলে দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি খাতও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। এছাড়া মাইক্রোচিপ তৈরির জন্য অপরিহার্য হিলিয়াম গ্যাসের বৈশ্বিক চাহিদার ২৫ শতাংশই মেটায় কাতার, যার ঘাটতি বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। পারস্য উপসাগরের ‘নর্থ ডোম’ গ্যাসক্ষেত্রটি কাতার ও ইরান উভয়ের অংশ হওয়ায় এই সংঘাত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকেও জটিল করে তুলেছে।



