ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির শক্তি কমাতে যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে—এমন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে খোদ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পর্যালোচনায়। বুধবার (১৮ মার্চ) সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির এক শুনানিতে অংশ নিয়ে ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড এবং সিআইএ প্রধান জন র্যাটক্লিফ জানান, তেহরান যদি আজ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টাও শুরু করে, তবে ২০৩৫ সালের আগে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) তৈরি করা তাদের পক্ষে অসম্ভব ছিল। এই মূল্যায়ন মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ ঘোষণার প্রধান অজুহাতকেই প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিল।
কমিটির সামনে সাক্ষ্য প্রদানকালে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, ইরান বর্তমানে ইউরোপ বা মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানার ক্ষমতা রাখলেও আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে পৌঁছানোর মতো প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ অর্জন করতে তাদের আরও অন্তত এক দশক সময় প্রয়োজন। গ্যাবার্ড স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, রাশিয়া বা চীনের মতো উন্নত মিসাইল প্রযুক্তি তেহরানের হাতে নেই। গোয়েন্দা প্রধানদের এই তথ্য গত বছর ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির দেওয়া রিপোর্টের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা ট্রাম্প প্রশাসনের ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’র দাবিকে নাকচ করে দেয়।
গ্যাবার্ড আরও মন্তব্য করেন যে, কোনো দেশের সামরিক সক্ষমতা আসন্ন হুমকি কি না, তা রাজনৈতিকভাবে নির্ধারণ করা প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত এখতিয়ার, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাজ নয়। অন্যদিকে, সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ বর্তমানে পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-কে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় বলে দাবি করলেও, ইরানের দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তু ভেদের সক্ষমতা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অতিরঞ্জিত বক্তব্যকে পরোক্ষভাবে নাকচ করে দিয়েছেন। মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং গোয়েন্দা তথ্যের মধ্যে বিদ্যমান দূরত্বই এখন ওয়াশিংটনের নীতি নির্ধারণে প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।



