― Advertisement ―

ভারতের নৌ-মহড়া শেষে ফেরার পথে হামলা: আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন দাবি ইরানের

ভারতের মাটিতে আয়োজিত ‘রাইসিনা সংলাপ’-এ যোগ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন কূটনৈতিক ও সামরিক অভিযোগ উত্থাপন করেছে ইরান। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খতিবজাদেহ অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানিয়েছেন যে, ভারত থেকে নৌ-মহড়া শেষ করে ফেরার পথে একটি নিরস্র ইরানি জাহাজে মার্কিন হামলা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। গত শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) শ্রীলঙ্কা উপকূলে মার্কিন সাবমেরিন থেকে ছোড়া টর্পেডো হামলায় ইরানের ‘আইআরআইএস ডেনা’ (IRIS Dena) নামক ফ্রিগেটটি ডুবে যায়, যাতে অন্তত ৮৭ জন ইরানি নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে তেহরান নিশ্চিত করেছে।

খতিবজাদেহ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, জাহাজটি ভারতের আমন্ত্রণে বহুপাক্ষিক নৌ-মহড়া ‘মিলান’-এ অংশ নিতে এসেছিল। মহড়া শেষে শান্তিপূর্ণভাবে ফেরার পথে কোনো উসকানি ছাড়াই এর ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি স্পষ্টভাবে দাবি করেন, সেই মুহূর্তে জাহাজটি কোনো যুদ্ধংদেহী অবস্থায় ছিল না এবং এতে কোনো সক্রিয় অস্ত্রশস্ত্রও ছিল না। বন্ধুপ্রতিম দেশের রাষ্ট্রীয় মেহমান হিসেবে একটি আনুষ্ঠানিক সফর শেষে ফেরার পথে এ ধরনের আক্রমণকে ইরান ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ এবং ‘আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তার ওপর কুঠারাঘাত’ হিসেবে দেখছে।

সংবাদ সম্মেলনে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেবল জাহাজ ডুবির ঘটনাই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির নিহত হওয়ার ঘটনারও তীব্র নিন্দা জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রধানকে হত্যা করে আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে। ওয়াশিংটনের এই নীতি যদি নতুন বৈশ্বিক নিয়মে পরিণত হয়, তবে পৃথিবীর কোনো দেশই আর কূটনৈতিকভাবে নিরাপদ থাকবে না। বর্তমানে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন অঞ্চল হামলার মুখে থাকায় দেশটি একে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই বা ‘চূড়ান্ত প্রতিরোধ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে খতিবজাদেহ জানান, এই কঠিন সময়েও তেহরান দিল্লির সঙ্গে তাদের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা পুরো অঞ্চলকে এক দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলার ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, এই সংঘাতের রেশ সহসা থামছে না। আন্তর্জাতিক মহলে এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—এই অস্থিরতা বিশ্বশান্তিকে কতটা খাদের কিনারে নিয়ে যাবে।