― Advertisement ―

নেপাল নির্বাচনে চমক: বাংলাদেশের বিপরীত পথে তরুণ প্রজন্মের বিজয়

দক্ষিণ এশিয়ার হিমালয় কন্যা নেপালে বইছে পরিবর্তনের প্রবল জোয়ার। গত সেপ্টেম্বরের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক দল ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ (আরএসপি) এখন দেশ শাসনের পথে। সাধারণ নির্বাচনের প্রাথমিক ভোট গণনায় দেখা যাচ্ছে, প্রথাগত দলগুলোকে পেছনে ফেলে ব্যাপক ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে জেন-জি প্রজন্মের পছন্দের এই সংগঠনটি। কাঠমান্ডুর সাবেক জনপ্রিয় মেয়র বালেন্দ্র শাহ এবং সাবেক সাংবাদিক রবি লামিছানের নেতৃত্বে আরএসপি এখন নেপালের ক্ষমতার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে যাচ্ছে, যা দেশটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।

এই নির্বাচনী ফলাফলের সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র ও জনপ্রিয় র‍্যাপার বালেন্দ্র শাহকে, যাকে নেপালের তরুণ সমাজ তাদের অঘোষিত নেতা ও ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করছে। ঝাপা-৫ আসনে তিনি সরাসরি লড়াই করছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাবশালী নেতা কেপি শর্মা অলির বিরুদ্ধে। প্রাথমিক ফলে দেখা যাচ্ছে, ১৬৫টি প্রত্যক্ষ আসনের মধ্যে আরএসপি এককভাবে ৯০টিতে এগিয়ে রয়েছে, যেখানে এক সময়ের শক্তিশালী দল ইউএমএল মাত্র ৮টি এবং নেপালি কংগ্রেস ৯টি আসনে কোনোমতে টিকে আছে। প্রবীণ নেতাদের এমন শোচনীয় পরাজয় নেপালি রাজনীতিতে এক নতুন যুগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নেপালের এই রাজনৈতিক উত্থানের পেছনে গত বছরের সেপ্টেম্বরের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান মূল ভূমিকা পালন করেছে। সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কীর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ৬৫টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। সাধারণ মানুষ দুর্নীতিগ্রস্ত পুরনো নেতৃত্বকে প্রত্যাখ্যান করে এমন এক নেতৃত্বের ওপর আস্থা রেখেছে, যারা সরাসরি জনদুর্ভোগ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে। বিশেষ করে রবি লামিছানের টেলিভিশন সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা এবং বালেন্দ্র শাহর নগর পরিচালনার স্বচ্ছতা ভোটারদের ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করেছে।

আকর্ষণীয় বিষয় হলো, নেপালের এই পরিবর্তনের সঙ্গে বাংলাদেশের গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের তুলনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ঘটেছিল, তবে সেখানে পরবর্তী নির্বাচনে মানুষ পুরনো দলগুলোর ওপরই আস্থা রেখেছে। কিন্তু নেপালে প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ বিপরীত; সেখানে মানুষ বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে সম্পূর্ণ নতুন দলের ওপর ভরসা করে। নেপালের তরুণ প্রজন্ম প্রমাণ করেছে যে, রাজপথের আন্দোলনকে ব্যালট পেপারে সফল রূপান্তর করা সম্ভব। এখন দেখার বিষয়, নতুন এই নেতৃত্ব নেপালের ভঙ্গুর অর্থনীতি ও প্রশাসনিক সংস্কারে কতটা সফল হতে পারে।