বৈশ্বিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতের ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত বিরল খনিজের (Rare Earth Elements) জন্য আর চীনের ওপর নির্ভরশীল থাকতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র। বেইজিংয়ের প্রভাব মোকাবিলায় এবার নিজস্ব ‘কৌশলগত খনিজ রিজার্ভ’ গঠনের এক উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সোমবার হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ‘প্রজেক্ট ভল্ট’ নামের এই বিশেষ উদ্যোগে ব্যয় করা হবে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার। মূলত বৈদ্যুতিক গাড়ি, স্মার্টফোন এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের সরবরাহ চেইনকে যেকোনো সংকট থেকে সুরক্ষিত রাখতেই এই বিশাল বিনিয়োগ।
বর্তমান বিশ্বে বিরল খনিজ উত্তোলনের ৭০ শতাংশ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের ৯০ শতাংশই নিয়ন্ত্রণ করে চীন। গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির জবাবে বেইজিং যখন গুরুত্বপূর্ণ এসব খনিজ রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে, তখন ওয়াশিংটন বিকল্প উৎসের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব করে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন পরিকল্পনাটি যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ‘ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ’-এর আদলে তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে খনিজের দামের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি প্রয়োজনে অভ্যন্তরীণ শিল্পকে কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি স্টেট ডিপার্টমেন্টে এই খনিজ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বের কয়েক ডজন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সেখানে মূল বক্তব্য দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স। এই বৈঠকে খনিজ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে নতুন নতুন দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একদিকে বিনিয়োগ, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক জোট—এই দ্বিমুখী কৌশলে চীনকে পাশ কাটিয়ে খনিজ খাতের নতুন মেরুকরণ ঘটাতে চায় ওয়াশিংটন।



