গাজীপুরের কাশিমপুরে নবীন নারী কারারক্ষীদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) এক গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে কারাগার পরিচালনা কেবল বন্দিদের আটকে রাখা নয়, বরং নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই মূল চ্যালেঞ্জ। বন্দিদের সংশোধিত নাগরিক হিসেবে সমাজে ফিরিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।
উপদেষ্টা বলেন, কারাগার ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বন্দিদের প্রতি মানবিক আচরণ এবং বৈষম্যহীন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা কেবল আইনি বিষয় নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের নৈতিকতার প্রতিফলন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কারারক্ষীদের দৃষ্টিভঙ্গি হতে হবে প্রশিক্ষিত ও মানবিক। নবীন নারী কারারক্ষীরা তাদের পেশাদারিত্ব ও সততার মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন গড়ে তুলবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে উপদেষ্টা স্মরণ করিয়ে দেন যে, দুর্নীতি রাষ্ট্রের ভিতকে দুর্বল করে দেয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো কারা সদস্য যদি ব্যক্তিগত লোভ বা রাজনৈতিক স্বার্থে কাজ করেন, তবে তিনি কেবল আইনই ভঙ্গ করেন না, জনআস্থাও নষ্ট করেন। কারারক্ষীরা কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর রক্ষক নন, বরং সাধারণ মানুষের করের টাকায় বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারী। তাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য হতে হবে জনকল্যাণ।
অনুষ্ঠানে প্যারেড পরিদর্শন ও কুচকাওয়াজের প্রশংসা করে উপদেষ্টা কৃতি নারী কারারক্ষীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। তিনি মনে করেন, শারীরিক দক্ষতা এবং নৈতিক মনোবল বৃদ্ধির মাধ্যমে কারাগারগুলোকে সত্যিকারের সংশোধন কেন্দ্রে রূপান্তর করা সম্ভব। প্রশিক্ষিত ও দেশপ্রেমিক কারারক্ষীদের হাত ধরেই কারা প্রশাসনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।



