― Advertisement ―

জাপানে পান্ডা যুগের অবসান: টোকিওর বিষণ্ণ বিদায়

দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে জাপানের মানুষের সঙ্গী হওয়া পান্ডা অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটছে। টোকিও’র উয়েনো চিড়িয়াখানার শেষ দুই আকর্ষণ, যমজ পান্ডা শাও শাও এবং লেই লেই আগামী মঙ্গলবার চীনের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছে। এর মাধ্যমে ১৯৭২ সালের পর প্রথমবারের মতো কোনো পান্ডা ছাড়াই কাটাতে হবে জাপানকে। রোববার ছিল এই প্রিয় প্রাণীদের শেষবারের মতো দেখার সুযোগ, যেখানে হাজারো মানুষ ভিড় জমান এক পলক দেখার আশায়। বিশাল জনসমাগম সামলাতে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ দর্শকদের জন্য মাত্র ৬০ সেকেন্ডের দেখার সুযোগ রাখলেও প্রিয় পান্ডাদের বিদায় জানাতে ভক্তদের মাঝে ব্যাপক আবেগ লক্ষ করা গেছে।

এই বিচ্ছেদের পেছনে কেবল বয়স বা প্রজনন নয়, বরং কাজ করছে গভীর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ। চীন ও জাপানের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং তাইওয়ান ইস্যুতে যে কূটনৈতিক শীতলতা তৈরি হয়েছে, তার ছায়া পড়েছে এই ‘পান্ডা কূটনীতিতেও’। চীন সাধারণত শুভেচ্ছা স্মারক হিসেবে বিভিন্ন দেশে পান্ডা লিজ বা ধার দেয়, কিন্তু বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জাপানের জন্য নতুন করে পান্ডা পাওয়ার পথ প্রায় রুদ্ধ হয়ে পড়েছে। উয়েনো চিড়িয়াখানার এই শূন্যতা কেবল আবেগীয় নয়, বরং বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধাক্কা হিসেবেও দেখা দিচ্ছে।

পান্ডা ভক্তদের অনেকেই এই পরিস্থিতি মেনে নিতে পারছেন না। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে প্রতিদিন চিড়িয়াখানায় আসা বা পান্ডাদের নিয়ে বই লেখা অনুরাগীরা এই বিদায়কে একটি যুগের অবসান হিসেবে দেখছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, পান্ডা না থাকার কারণে উয়েনো সংলগ্ন এলাকায় বার্ষিক প্রায় ২০ বিলিয়ন ইয়েন বা ১২৮ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। চীন সরকার জাপানি নাগরিকদের তাদের দেশে গিয়ে পান্ডা দেখার আমন্ত্রণ জানালেও, জাপানের মাটিতে সাদা-কালো এই প্রাণীদের অনুপস্থিতি দেশটির সাধারণ মানুষের মনে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করে দিয়েছে।