বাংলাদেশ ও কানাডার দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক মেলবন্ধনে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের শীর্ষ সংগঠন ‘বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব কানাডা’ (BBCC)-এর সহ-সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ সাংবাদিকদের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ওটাওয়া ঢাকার নতুন প্রশাসনের সাথে গঠনমূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক বজায় রাখতে অত্যন্ত আগ্রহী। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই চেম্বারটি উত্তর আমেরিকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা পূরণের পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য, উদ্ভাবন এবং বিনিয়োগের প্রসারে সেতু হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।
নতুন সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান, আইনের শাসন, মানবাধিকার রক্ষা, সুশাসন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং একটি উন্মুক্ত বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এই সূচকগুলো বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবং দীর্ঘমেয়াদি সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ (FDI) আকর্ষণে প্রধান শর্ত হিসেবে কাজ করবে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক সংকট এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস অনুসন্ধান, দক্ষ অবকাঠামো তৈরি এবং জ্বালানি বহুমুখীকরণের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
কানাডা ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ২০২৫ সালে ৩.৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তবে এই বাণিজ্য এখনো ৯০ শতাংশেরও বেশি তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল। আগামী পাঁচ বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে ৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রচলিত পোশাক খাতের বাইরে গিয়ে ওষুধ শিল্প, আইটি খাত, চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক এবং হোম টেক্সটাইল সামগ্রী কানাডার বাজারে রপ্তানি করার জন্য গুণগত মান ও লজিস্টিকস উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে কানাডায় প্রায় দুই লক্ষাধিক বাংলাদেশি প্রবাসী অত্যন্ত সুনামের সাথে বসবাস করছেন। দেশটির ২০২৬-২০২৮ সালের নতুন অভিবাসন নীতি অনুযায়ী প্রতি বছর ৩ লক্ষ ৮০ হাজার স্থায়ী বাসিন্দা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসক, নার্স ও প্রকৌশলীদের মতো দক্ষ পেশাজীবীদের কানাডায় কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকলেও প্রাদেশিক লাইসেন্সিং ও ভাষা দক্ষতার কড়া নিয়ম মানতে হয়। এছাড়া বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় কানাডা তার আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলের পরিমাণ ৫.৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে, যা বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হতে পারে।



