― Advertisement ―

আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন ডলারে নেওয়ার লক্ষ্য আইবিসিসিআইয়ের

সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কানেক্টিভিটি বৃদ্ধি এবং শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক বাণিজ্য নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (IBCCI) নবনির্বাচিত সভাপতি মো. মশিউর রহমান। সম্প্রতি রাজধানীতে সাংবাদিকদের সাথে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তানের মধ্যে ব্যবসায়িক সংলাপ এবং খাতভিত্তিক সহযোগিতা জোরদার করার বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে টেক্সটাইল, কৃষি, ফার্মাসিউটিক্যালস ও সেবা খাতে সার্কের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বাড়াতে আইবিসিসিআই একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং বিশ্ব অর্থনীতির সংকট প্রসঙ্গে আইবিসিসিআই সভাপতি জানান, আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতি স্বাভাবিকভাবেই চাপের মধ্যে রয়েছে। তবে দেশের শিল্প ও জনগণের সুবিধার্থে জ্বালানি খাতে সরকারের দৈনিক প্রায় ১৭০ কোটি টাকার ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি একটি বড় ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিচালনায় দেশে সুশাসন, আইনের শাসন এবং অর্থনৈতিক সংস্কার নিশ্চিত হলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা আরও বাড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত জরুরি।

বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের বর্তমান স্থিতি তুলে ধরে মশিউর রহমান জানান, বর্তমানে দুই দেশের বার্ষিক বাণিজ্য ভলিউম প্রায় ১১ থেকে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ভারতের রপ্তানি ১১-১২ বিলিয়ন ডলার এবং বাংলাদেশের রপ্তানি ১.৭-২ বিলিয়ন ডলার। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে ২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে কাস্টমস জটিলতা, লজিস্টিকস সীমাবদ্ধতা এবং বন্দর অবকাঠামোর মতো অশুল্ক বাধাগুলো (Non-Tariff Barriers) দ্রুত দূর করা প্রয়োজন। একই সাথে ভারতের হাই কমিশন বাংলাদেশিদের জন্য বিজনেস ও মেডিকেল ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে ধাপে ধাপে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার ৫৪ বছরের মূল্যায়ন করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে আজকের মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া এক অবিস্মরণীয় সাফল্য। তৈরি পোশাক খাত, রেমিট্যান্স এবং কৃষি খাতের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি এই অর্জনের মূল চালিকাশক্তি। ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে তিনি বাংলাদেশের বিশাল সামুদ্রিক জলসীমাকে ব্যবহার করে ‘ব্লু ইকোনমি’ বা নীল অর্থনীতির বিপুল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন। বঙ্গোপসাগরের মৎস্য সম্পদ এবং অফশোর গ্যাস অনুসন্ধানে সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে এটি জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম প্রধান স্তম্ভে পরিণত হবে।