― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

ঢাকায় ৫ ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতের বিশেষ বৈঠক!

ঢাকা ও ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও বহুমাত্রিক সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এক বিশেষ কূটনৈতিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উচ্চপর্যায়ের এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বৈঠকে বর্তমান সরকারের নবনিযুক্ত বা দায়িত্বপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলোর পাঁচ জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক ও শীর্ষ রাষ্ট্রদূত গভীর আলোচনায় অংশ নেন।

উচ্চপর্যায়ের এই কূটনৈতিক সংলাপে ইউরোপীয় পরাশক্তিগুলোর পক্ষে নেতৃত্ব দেন ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-চার্লে, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিসটিয়াগা এবং যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক। তাঁদের পাশাপাশি ইইউ-এর চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বাইবা জারিনা ও জার্মানির চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স আনজা কারস্টেন এই বিশেষ বৈঠকে যুক্ত ছিলেন। এ সময় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, যিনি দেশের নতুন অর্থনৈতিক ভাবনার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন।

গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ এবং ইউরোপীয় অংশীদারদের দীর্ঘদিনের প্রথাগত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলো, বিশেষ করে—বাণিজ্যিক লেনদেন প্রসার, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ সহজীকরণ, উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বেসামরিক বিমান চলাচল (এভিয়েশন) খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার পরিধি আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করা। উভয় পক্ষই বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তাদের এই সহযোগিতাকে নতুন কাঠামোগত রূপ দেওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছে।

চলতি অর্থনৈতিক রূপান্তরের সময়ে দেশের উৎপাদনশীল খাতগুলোতে সরাসরি ইউরোপীয় পুঁজি আকর্ষণ ও বিনিয়োগ পরিবেশের সংস্কার নিয়ে বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর উপস্থিতি বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব যোগ করে, যেখানে তিনি বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য ওয়ান-স্টপ সার্ভিস ও প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধার রূপরেখা তুলে ধরেন। বিশেষ করে বিমান চলাচল খাতের আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়ে ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক গভীর আস্থা, পারস্পরিক মর্যাদা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে এই বিদ্যমান অংশীদারত্বকে আরও সুসংহত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নে ইউরোপ দীর্ঘকাল ধরে এক বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখছে এবং আগামী দিনে এই বন্ধন আরও টেকসই হবে।

অন্যদিকে, ইইউ কূটনীতিকরাও ঢাকার সাথে তাঁদের নিজ নিজ রাষ্ট্রের উন্নয়ন অংশীদারত্ব ও বহুমুখী সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পূর্ণ আগ্রহ প্রকাশ করেন। এই পারস্পরিক কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতি আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশে নতুন বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কৌশলগত রূপান্তরের পথকে আরও মসৃণ ও ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।