― Advertisement ―

২০২৬ বিশ্বকাপ: ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনে রাজনীতির জয় নাকি ফুটবলের পরাজয়?

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের বিশাল কর্মযজ্ঞে নিজেকে বিশ্বমঞ্চের কেন্দ্রে উপস্থাপনের এক অনন্য সুযোগ পেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৮ সালে যখন যুক্তরাষ্ট্র এই বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার গৌরব অর্জন করে, তখন ট্রাম্প আক্ষেপ করেছিলেন যে মেয়াদের সীমাবদ্ধতার কারণে তিনি হোয়াইট হাউসে থাকতে পারবেন না। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে তিনি কেবল ক্ষমতার অলিন্দেই ফিরে আসেননি, বরং ফুটবল বিশ্বকাপের মতো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরকে নিজের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের নতুন হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছেন। ওভাল অফিসে বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফির প্রতিরূপ প্রদর্শন থেকে শুরু করে ফিফা প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা—সবকিছুতেই ট্রাম্প তাঁর চিরাচরিত ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ দর্শনের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।

তবে ট্রাম্পের এই ‘ফুটবল প্রেম’ ছাপিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপকে ঘিরে দানা বাঁধছে বহুমুখী রাজনৈতিক বিতর্ক। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বিতর্কিত বিদেশনীতি ও কঠোর অবস্থান অনেক বিদেশি সমর্থক এবং সমালোচকের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনো ট্রাম্পকে ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ দিলেও, পরবর্তীতে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সামরিক অভিযানের নির্দেশ সেই সম্মাননা নিয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এছাড়া ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড ক্রয়ের মতো দাবি ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে বিশ্বকাপের আনন্দঘন পরিবেশের পরিবর্তে বয়কটের সুর তুলেছিল।

প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতিও এই বৈশ্বিক আসরে কালো মায়া তৈরি করেছে। সোমালিয়ার একজন খ্যাতিমান রেফারিকে ভিসা না দেওয়া এবং সেনেগাল জাতীয় দলের ওপর নজিরবিহীন নিরাপত্তা তল্লাশি নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা চলছে। এমনকি অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা দক্ষিণ আমেরিকান সমর্থকদের ওপর কোনো বিশেষ অভিযান চালাবে কি না, তা নিয়েও এক ধরনের ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। এদিকে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে তাদের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচের টিকিটের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে, যা ক্রীড়াঙ্গনে রাজনীতির অনুপ্রবেশ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সবশেষে বিতর্কের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে টিকিটের আকাশচুম্বী মূল্য। ফিফা এবং ট্রাম্প প্রশাসন যখন বিশ্বকাপকে মুনাফা অর্জনের বড় উৎস হিসেবে দেখছে, তখন সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা একে শ্রমজীবী মানুষের উৎসব থেকে বিচ্যুত হওয়ার অভিযোগ তুলছেন। উদ্বোধনী ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম খেলা দেখতে ১ হাজার ডলারের টিকিটের দাম শুনে স্বয়ং ট্রাম্পও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ কেবল একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, বরং উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যকার রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতার এক লিটমাস টেস্টে পরিণত হতে যাচ্ছে।