― Advertisement ―

শত বছর পর মার্কিন মুদ্রায় জীবিত প্রেসিডেন্টের প্রতিকৃতি: এক ডলারের নতুন কয়েনে ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার আড়াই শতক পূর্তি উপলক্ষে এক ডলারের একটি বিশেষ স্মারক কয়েন বাজারে এনেছে দেশটির টাকশাল (ইউএস মিন্ট)। এই মুদ্রার সামনের অংশে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি স্থান পেয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় এক শতাব্দী বা ১০০ বছর পর এই প্রথম কোনো জীবিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের ছবি দেশটির অফিশিয়াল মুদ্রায় মুদ্রিত হলো।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তির ঐতিহাসিক মাইলফলক উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে তৈরি এই বিশেষ কয়েনটিতে ট্রাম্পের প্রতিকৃতির পাশে ঐতিহ্যবাহী বাণী ‘ইন গড উই ট্রাস্ট’ খোদাই করা হয়েছে। মার্কিন টাকশাল জানিয়েছে, জাতির চেতনা, গর্ব ও ইতিহাসকে তুলে ধরতেই এই নকশা নির্বাচন করা হয়েছে। সংগ্রাহকদের মধ্যে এই স্মারক মুদ্রা নিয়ে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা গেছে।

কয়েনটির বাজারজাতকরণ শুরু হতেই বিশ্বজুড়ে সংগ্রাহকদের মধ্যে কেনার ধুম পড়ে যায়। মার্কিন টাকশালের তথ্যমতে, ২৫টি কয়েনের একটি রোলের মূল্য ধরা হয়েছে ৬১ ডলার এবং ১০০টি কয়েনের একটি ব্যাগের দাম ১৫৪.৫০ ডলার। বিক্রি শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই টাকশালের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে কয়েনগুলোর মজুত শেষ হয়ে যায়।

এর আগে ১৯২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ১৫০ বছর পূর্তিতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজের ছবি হাফ-ডলারের কয়েনে স্থান পেয়েছিল। আমেরিকান ইতিহাসে সেটিই ছিল জীবিত কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের ছবি সংবলিত প্রথম মুদ্রা। শত বছর পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিকৃতি স্থান পাওয়ার মাধ্যমে সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি ঘটলো।

প্রচলিত মার্কিন আইন অনুযায়ী, ১৮৬৬ সালের ‘থেয়ার অ্যামেন্ডমেন্ট’ কাগুজে নোটে জীবিত ব্যক্তির ছবি ব্যবহারে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা দেয়। তবে স্মারক ধাতব মুদ্রার ক্ষেত্রে এই আইনি বাধা প্রযোজ্য নয় বলে ব্যাখ্যা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ২০২০ সালের ‘সার্কুলেটিং কালেক্টিবল কয়েন রিডিজাইন অ্যাক্ট’ অনুযায়ী মুদ্রার পেছনের অংশে জীবিত ব্যক্তির প্রতিকৃতি নিষেধ হলেও সামনের অংশে ব্যবহারে বাধা নেই।

ইতোপূর্বে মে মাসে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ২৫০ ডলারের কাগুজে নোটেও ট্রাম্পের ছবি ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তবে কাগুজে মুদ্রায় জীবিত ব্যক্তির ছবির আইনি বিধিনিষেধ সরাতে কংগ্রেসে ট্রাম্প সমর্থকদের প্রস্তাবিত বিলটি এখনও অমীমাংসিত রয়েছে।