― Advertisement ―

কিয়েভের কাছে রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন হামলা: গোলাবারুদের গুদামে বিস্ফোরণে নিহত ৩৭

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের অদূরে একটি কৌশলগত গোলাবারুদের গুদামে রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন হামলায় প্রাণহানি বেড়ে ৩৭ জনে পৌঁছেছে। শুক্রবার গভীর রাতে চালানো এই নৈশ হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে কিয়েভের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরতলির বিশাল এলাকা। হামলায় নিহতদের মধ্যে দিমিত্রিভস্কা গ্রামের মেয়র তারাস দিদিচও রয়েছেন। কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর তৈমুর তকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে বার্তা দিয়ে নিশ্চিত করেছেন যে উদ্ধারকারী দল বুচা জেলার মর্মান্তিক দুর্ঘটনাস্থলে রাতভর তৎপরতা চালিয়ে হতাহতদের উদ্ধার কাজ অব্যাহত রেখেছে।

হামলা ও পরবর্তী বিস্ফোরণের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে আশপাশের অন্তত ৫০টি আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অগ্নিকাণ্ডের শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে কাছের বেশ কিছু বসতবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও অতিরিক্ত প্রাণহানি এড়াতে সংলগ্ন এলাকা থেকে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৪০০ অধিবাসীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন সাধারণ নাগরিক।

রাশিয়ার হামলা মাত্রার দিক থেকে নজিরবিহীন ছিল বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনী। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত ইউক্রেনের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে অন্তত ২৬৭টি ড্রোন এবং দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে রুশ বাহিনী। গুদামে প্রাণহানি ছাড়াও রাজধানীর আলাদা স্থানে পৃথক হামলায় আরও তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে কিয়েভ শহরের দুই বছরের একটি শিশু এবং শহরতলির ১৪ বছরের এক কিশোরী রয়েছে।

তবে ড্রোন হামলার পাশাপাশি এই ঘটনার অন্য একটি মোড় সামনে এনেছে ইউক্রেনীয় সরকারি কৌঁসুলিরা। শহরের আবাসিক এলাকার নিকটে বৈধ অনুমোদন ছাড়া বিপুল পরিমাণ সামরিক বিস্ফোরক মজুত করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে ফৌজদারি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের ঘটনার বিস্তারিত খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সীমান্তের ওপারে ইউক্রেনও পাল্টা ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাতে অন্তত তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং নয়জন আহত হয়েছেন, যাদের তিনজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এছাড়া রুশ-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়া উপদ্বীপের সেভাস্তোপোলে পৃথক ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও তিনজন আহত হওয়ার খবর দিয়েছেন সেখানকার রুশ গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন দুই পক্ষই দূরপাল্লার হামলা ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। সামরিক ঘাঁটির বাইরে জ্বালানি অবকাঠামো, তেল শোধনাগার এবং বন্দর স্থাপনায় লক্ষ্যবস্তু স্থির করায় উভয় দেশের বেসামরিক জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে।