― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বাড়ানোর ধাক্কায় বিপাকে বাংলাদেশি রপ্তানি খাত

ডেস্ক রিপোর্টঃ মার্কিন প্রশাসনের নতুন শুল্ক নীতির আওতায় বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন রপ্তানি খাত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা। নতুন শুল্ক নীতির ফলে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক ৩৭ শতাংশ বাড়ছে, যা আগের ১৫ শতাংশের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মোট ৫২ শতাংশে দাঁড়াবে।

এ প্রসঙ্গে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-র সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “শুল্ক বৃদ্ধির বিষয়টি একেবারে অপ্রত্যাশিত ছিল না, তবে এতটা বেশি হবে, তা ভাবিনি। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে যাবে এবং এর ফলে রপ্তানি খাতে সংকট তৈরি হতে পারে।”

প্রভাব কতটা গভীর?
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য। প্রতিবছর দেশটিতে প্রায় ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন (৮৪০ কোটি) ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়, যার মধ্যে বেশিরভাগই তৈরি পোশাক। অতিরিক্ত শুল্কের ফলে পোশাকের দাম বেড়ে যাবে, ফলে মার্কিন ক্রেতারা বিকল্প বাজারের দিকে ঝুঁকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “বাংলাদেশের ওপর শুল্ক বেড়ে ৫২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আমাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে কঠিন করে তুলবে। ভারত ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে শুল্ক কম বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে তারা তুলনামূলক সুবিধা পাবে।”

ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে মার্কিন বাজার সংকুচিত হবে, এবং ক্রেতারা অন্য দেশে স্থানান্তর হতে পারেন। আমাদের উৎপাদন খরচ কমাতে হবে এবং নতুন বাজার খুঁজতে হবে।”

কোন দেশের ওপর কত শুল্ক?
যুক্তরাষ্ট্র শুধু বাংলাদেশের ওপর নয়, অন্যান্য দেশের ওপরও নতুন শুল্ক আরোপ করেছে।

  • চীন: ৩৪%
  • ভিয়েতনাম: ৪৬%
  • কম্বোডিয়া: ৪৯%
  • ভারত: ২৬%
  • পাকিস্তান: ২৯%
  • ইউরোপীয় ইউনিয়ন: ২০%

বিশ্লেষকদের মতে, যদিও কিছু দেশের ওপর বাংলাদেশের তুলনায় বেশি শুল্ক বসেছে, তবে ভারত ও পাকিস্তানের মতো প্রতিযোগীদের তুলনায় বাংলাদেশের ওপর শুল্ক বৃদ্ধির হার বেশি হওয়ায় উদ্বেগ রয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবেলার উপায়
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। বিজিএমইএর সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, “আমাদের মার্কিন প্রশাসনকে বোঝাতে হবে যে, আমরা তাদের কাছ থেকে তুলা আমদানি করি এবং তা দিয়ে তৈরি পোশাক তৈরি করি। এই যুক্তিটি আলোচনায় তুলে ধরা যেতে পারে।”

এছাড়া, বিকল্প বাজার খোঁজার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ল্যাটিন আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির উদ্যোগ নিলে সংকট কিছুটা লাঘব হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ
শ্রমিকদের চাকরি হারানোর সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তার। তিনি বলেন, “মার্কিন বাজার সংকুচিত হলে কারখানাগুলোতে প্রভাব পড়বে। মালিকরা যদি দাম সমন্বয় করতে না পারেন, তাহলে অনেক শ্রমিক চাকরি হারাতে পারেন।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন শুল্ক নীতির ফলে বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। তবে সঠিক কৌশল ও বাজার বহুমুখীকরণের মাধ্যমে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।