ডেস্ক রিপোর্টঃ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণ বর্তমানে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা দেখছে, যা তিনি “পুনর্জন্ম” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শুক্রবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আয়োজিত এই সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমাদের জনগণ আবারও নতুন করে জেগে উঠেছে—একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক এবং স্বাধীন সমাজের আকাঙ্ক্ষায়।”
ড. ইউনূস স্মরণ করেন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কথা, যেখানে লাখো মানুষ জীবন দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন। তিনি বলেন, “তাদের স্বপ্ন ছিল এমন একটি সমাজ যেখানে প্রতিটি মানুষ নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে। কিন্তু গত ১৫ বছরে যুবসমাজসহ সাধারণ মানুষের অধিকার সংকুচিত হয়েছে। প্রায় ২ হাজার মানুষ, যাদের মধ্যে ১১৮ জন শিশু, প্রাণ হারিয়েছে—এটি জাতির জন্য এক গভীর বেদনার ইতিহাস।”
তিনি জানান, দেশের বর্তমান সংকটে ছাত্রনেতারা তাকে আহ্বান জানিয়েছেন নেতৃত্ব দিতে এবং জনগণের পক্ষে কথা বলতে। “দেশকে রক্ষা ও নতুন দিগন্তে নিয়ে যেতে আমি দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছি,” বলেন নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ।
ড. ইউনূস তার বক্তব্যে থাইল্যান্ড সরকারের আতিথেয়তা এবং বিমসটেক সচিবালয়ের নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, “১৯৯৭ সালে গঠিত এই আঞ্চলিক সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম এখন আরও সক্রিয় এবং সম্ভাবনাময়। আমি সম্মেলনে অংশ নিয়ে আনন্দিত এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যেতে আগ্রহী।”
সম্প্রতি মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন তিনি। “বাংলাদেশ এই কঠিন সময়ে থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের জনগণের পাশে রয়েছে। আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পুনরুদ্ধার কামনা করছি,” বলেন ইউনূস।
ড. ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রার নেতৃত্বে দেশটি এই দুর্যোগ সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারবে।
বিএম/সজীব



