প্রায় ২৩ বছর ধরে চলা সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটিয়ে আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মার্কিন ও ইরাকি কর্মকর্তারা। এর মধ্য দিয়ে ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের শাসন উৎখাতের লক্ষ্যে শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক অভিযানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।
হোয়াইট হাউসে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির সঙ্গে বৈঠকের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমাদের মনে হয়, সেখানে আর সামরিক উপস্থিতির প্রয়োজন নেই।” তিনি আরও বলেন, ইরাক এখন আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে এবং দেশটির অর্থনীতি নতুন সম্ভাবনার দিকে এগোচ্ছে।
একই দিনে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) পৃথকভাবে নিশ্চিত করেছে, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ দেশটিতে থাকা মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার সম্পন্ন হবে।
২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী সাদ্দাম হোসেনের সরকারকে উৎখাতের জন্য ইরাকে অভিযান শুরু করে। পরবর্তীতে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মার্কিন সেনারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে আইএসের প্রভাব কমে আসার পর কয়েক বছর ধরেই ধাপে ধাপে সেনা কমানো হচ্ছিল। বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়ে সীমিত এলাকায় বাহিনীকে পুনর্বিন্যাস করা হয়।
এই প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের দুই দশকেরও বেশি সময়ের সামরিক উপস্থিতির সমাপ্তি ঘটবে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত।



