― Advertisement ―

মার্কিন নির্বাচনে ফলাফল প্রকাশের প্রতীক্ষা: পেনসিলভেনিয়ার মধ্যরাতের তথ্যই নির্ধারণ করবে চূড়ান্ত ফলাফল

বরিশাল মেইল ডেস্কঃ বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ তাকিয়ে থাকবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিকে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা কখন হবে তা নিয়ে উত্তেজনা চরমে, বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলীয় সময়ে রাত বারোটার পর থেকেই ভোটার এবং বিশ্লেষকরা চোখ রাখবেন পেনসিলভেনিয়ার ফলাফলের দিকে। এই অঙ্গরাজ্যটি ২০২৪ নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে ডাকযোগে ভোটের সংখ্যা এবং গণনার বিলম্বে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার সময় পিছিয়ে যেতে পারে। মহামারীর সময়ে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়ার জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় এবার এই ভোটগুলো নির্বাচন ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

পেনসিলভেনিয়ার ৬৭টি কাউন্টি রাত ১২টা ১ মিনিটের মধ্যে ডাকযোগে আসা ভোটের অবশিষ্ট পরিসংখ্যান প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই তথ্য গণনায় যোগ করার পর বিশ্লেষকরা সহজেই অনুমান করতে পারবেন কোন প্রার্থী রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পেতে চলেছেন। তবে এটি শুধু পেনসিলভেনিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নির্বাচনের রাতেই দক্ষিণের দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য জর্জিয়া এবং উত্তর ক্যারোলিনায় ভোট গণনার পর প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের কথা রয়েছে, যা রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি কোন প্রার্থী এই দুটি অঙ্গরাজ্যে জয়ী হন, তাহলে তিনি নির্বাচনী দৌড়ে অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে চলে আসবেন। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি এই দুই রাজ্যেই এগিয়ে যান এবং পরবর্তীতে পেনসিলভেনিয়াতেও বিজয়ী হন, তবে তিনি কার্যত নির্বাচনে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাবেন।

পেনসিলভেনিয়ার ভোট গণনার জটিলতা ও আইনগত প্রক্রিয়া

পেনসিলভেনিয়া রাজ্যে ২০২২ সালে নতুন আইন পাস করা হয়, যেখানে রাজ্যের কাউন্টিগুলিকে ডাকযোগে আসা ভোটের দ্রুত গণনার জন্য অতিরিক্ত তহবিলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে তহবিল পাওয়ার শর্তে কাউন্টিগুলিকে মোট কতগুলো ডাকযোগে আসা ভোট গণনা বাকি রয়েছে তা মধ্যরাত ১২টা ১ মিনিটের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। এর মাধ্যমে শুধু প্রাথমিক ফলাফলই নয়, কোন প্রার্থীর বিজয়ের সম্ভাবনা কতটুকু তা আরও স্পষ্ট হবে। পেনসিলভেনিয়ার অধিকাংশ কাউন্টি এই শর্ত মেনে নিয়েছে এবং কেবল দুটি ছোট কাউন্টি তহবিল নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এর ফলে, নির্বাচনের রাতে মধ্যরাতের পরই ফলাফলে কোন প্রার্থী এগিয়ে থাকবেন তার কিছুটা ধারণা পাওয়া যাবে।

অন্য রাজ্যের ধীর গতির গণনা এবং তার প্রভাব

যদিও পেনসিলভেনিয়ায় দ্রুত ফলাফল প্রকাশের চেষ্টা করা হচ্ছে, তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে ফলাফলের ধীরগতি লক্ষ্য করা যেতে পারে। উইসকনসিনের মিলওয়াকি কাউন্টিতে ডাকযোগে পাঠানো ভোটের ফলাফল রাত ১২টার আগে পাওয়া সম্ভব হবে না বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এই বিলম্বের কারণে রাতভর অপেক্ষা করতে হতে পারে, এমনকি তা ভোর রাত পর্যন্ত গড়াতে পারে। মিশিগানে নতুন আইন অনুযায়ী, ডাকযোগে ভোট আগেভাগেই যাচাই করা যাবে, তবে সেখানকার প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার মতে, সঠিক ফলাফল পেতে বুধবার দিন শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। এছাড়াও, আরিজোনা এবং নেভাডা রাজ্যে ডাকযোগে ভোটের গণনা নির্বাচনের পরও চলতে পারে, কারণ এখানকার আইন অনুসারে, নির্বাচন পরবর্তী কিছুদিন পর্যন্ত ডাকযোগে আসা ভোট গণনা করার সুযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে, এইসব রাজ্যের ফলাফলের বিলম্বে ২০২০ সালের মতোই বিভিন্ন ষড়যন্ত্রমূলক তত্ত্ব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়তে পারে। ২০২০ সালে মহামারীর প্রেক্ষাপটে ভোট গণনার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় এরকম বিভ্রান্তি এবং অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছিল, যা পরবর্তীতে মার্কিন ক্যাপিটলে সহিংসতায় রূপ নেয়। ফলে এবারও গণনা বিলম্ব হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন যে, ২০২০ সালের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ফলাফল দ্রুত ঘোষণা সম্ভব হবে।

দ্রুত ফলাফল ঘোষণার চ্যালেঞ্জ এবং নতুন আইন

২০২০ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবারের নির্বাচনে কিছু নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কিছু রাজ্যে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে যাতে ডাকযোগে আসা ভোট আগেই খোলা ও যাচাই করা সম্ভব হয়, ফলে নির্বাচনের দিন গণনা প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলতে পারে। বিশেষ করে মিশিগান এবং জর্জিয়ায় এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ফলাফল ঘোষণায় সহায়ক হবে। তবে পেনসিলভেনিয়া এবং উইসকনসিনে এই ধরনের পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব হয়েছে, কারণ উভয় রাজ্যের রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত আইনসভা এমন বিল পাস করতে বাধা দিয়েছে। নির্বাচনী কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ ধরণের বিলম্ব ২০২০ সালের মতো রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।

পেনসিলভেনিয়ার প্রেক্ষাপটে এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সেখানকার ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতারা মনে করেন, রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা এই বিলম্বকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাজে লাগাচ্ছেন। তাঁদের মতে, পূর্ববর্তী নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে যে, প্রথমে সরাসরি ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হয় এবং পরে ডাকযোগে ভোটের ফলাফল আসে, যা প্রাথমিক ফলাফলকে ভিন্ন দিকে মোড় নিতে সহায়ক। তাই সময়মতো ফলাফল ঘোষণা করতে দেরি হলে ২০২০ সালের মতো বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

২০২৪ সালে দ্রুত ফলাফল ঘোষণার প্রত্যাশা

নির্বাচনী কর্মকর্তারা এই বছর দ্রুত ফলাফল ঘোষণার ব্যাপারে আশাবাদী। ২০২০ সালে মহামারীর কারণে প্রথমবারের মতো ব্যাপক পরিসরে ডাকযোগে ভোট নেওয়া হয়, যা গণনার ক্ষেত্রে বিশাল চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল। তবে এবারের নির্বাচনে সেই তুলনায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর কারণ হলো, কর্মকর্তারা আরও উন্নত যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষণ এবং ডাকযোগে ভোটের ব্যাপারে আগের থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। ২০২০ সালের মতো ভোটের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়নি এবং মহামারীর প্রভাবও কমে এসেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২০ সালের মতো একটি “পারফেক্ট স্টর্ম” আর সৃষ্টি হবে না। এবার ভোটের গণনা দ্রুততর এবং সঠিকভাবে সম্পন্ন হবে, যা নির্বাচন-পরবর্তী অস্থিতিশীলতা হ্রাস করবে। তবুও কর্মকর্তারা জনগণকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন গণনা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোন বিভ্রান্তি বা গুজব সৃষ্টি না হয়।

আরও পড়ুনঃ