― Advertisement ―

লেবানন সংকটে আটকা পড়ছে ট্রাম্পের ইরান নীতি

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে ওয়াশিংটনের কৌশলগত সমীকরণ আবারও বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। ইরান যুদ্ধ থেকে কূটনৈতিক উপায়ে সম্মানজনক প্রস্থান নিশ্চিত করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন, ঠিক তখনই লেবানন সীমান্ত নতুন এক দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে তেহরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলি বিমান হামলা এবং তার জবাবে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনায় তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান সব ধরনের শান্তি আলোচনা স্থগিত ঘোষণা করেছে, যা হোয়াইট হাউসের শান্তি প্রচেষ্টাকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ জুনের তীব্র গরমে এসে মার্কিন প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত বিজয়ের যে আশা ট্রাম্প দেখিয়েছিলেন, তা এখন স্থবিরতায় রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক উত্তপ্ত ফোনালাপে অংশ নেন। নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, লেবাননে ইসরায়েলের আকস্মিক সামরিক অভিযানে নিজের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করতে গিয়ে ট্রাম্প বেশ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ও অশালীন শব্দও ব্যবহার করেন। যদিও ট্রাম্প প্রকাশ্যে দাবি করেছেন যে তিনি খুব দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন, তবে বাস্তবতা হলো ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার এই সংঘাত ট্রাম্পের ইরান-চুক্তির ভবিষ্যৎকে পুরোপুরি ঝুলিয়ে দিয়েছে।

হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র করার বিষয়ে ইসরায়েলের যে অনড় অবস্থান, তা লেবাননের বর্তমান ভঙ্গুর ও বহুমাত্রিক ধর্মীয় বিভাজনে বিভক্ত সরকারের পক্ষে বাস্তবায়ন করা প্রায় অসম্ভব। তেহরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) লেবাননকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একটি অগ্রবর্তী কৌশলগত ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে আসছে এবং তারা কোনোভাবেই হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা হারাতে দিতে রাজি নয়। তাছাড়া, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেখানে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী সমাধান চাইছেন, সেখানে ইসরায়েল তার দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক সুরক্ষাকেই একমাত্র অগ্রাধিকার দিচ্ছে। মিত্রদের এই দৃষ্টিভঙ্গির ফারাক ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক উদ্যোগকে জটিল করে তুলেছে।

হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক জ্বালানি পথ বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তা থেকে উদ্ধার পেতে ট্রাম্পের এই চুক্তির প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কাগজে-কলমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এক ধরনের যুদ্ধবিরতি চললেও, মাঠপর্যায়ে মার্কিন বাহিনী কর্তৃক ইরানের রাডার ধ্বংস এবং ইরানের পাল্টা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি প্রতিনিয়ত একে অপরের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে। লেবাননের এই নতুন সংকট যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে তা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে এক স্থায়ী ক্ষত তৈরি করবে। মধ্যপ্রাচ্যের গোলকধাঁধা থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের বের হওয়া যে কতটা কঠিন, এই ঘটনা আবারও তা প্রমাণ করল।