― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় চালু ও চীনা মডেলে কারিগরি শিক্ষার নতুন ছক: নতুন শ্রমবাজারের সন্ধানে সরকার

বন্ধ থাকা বৈদেশিয় শ্রমবাজারগুলো অবিলম্বে পুনরায় চালু করা এবং উদীয়মান নতুন বাজারগুলোতে প্রবেশের লক্ষ্যে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে সরকার। দক্ষ ও মানসম্মত মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এবার দেশের কারিগরি শিক্ষায় চিনা মডেল অনুসরণের বৃহৎ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ঢাকার হোটেল শেরাটনে অ্যারাইজ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-জিসিসি ওয়ার্কফোর্স অ্যান্ড ইকোনমিক আউটলুক’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র এবং শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী) ড. মাহ্দী আমিন এসব তথ্য জানান।

প্রধান অতিথি জানান, শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রী ড. এ এন এম এহছানুল হক মিলনের নেতৃত্বে সম্প্রতি চিনে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত সফল সফর সম্পন্ন হয়েছে। ওই সফরে চিনের ৫০টিরও বেশি শীর্ষস্থানীয় কারিগরি ও ভোকেশনাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। সফরে ‘চিন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ বিষয়ক সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর পাশাপাশি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে ‘চিন-বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড এডুকেশন ইন্টিগ্রেশন ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস সেন্টার’।

ড. মাহ্দী আমিন বলেন, চিনের কারিগরি শিক্ষা আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত কার্যকর ও সাশ্রয়ী হিসেবে স্বীকৃত। সরকার এখন ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের চিনে উচ্চতর কারিগরি শিক্ষায় পাঠানোর বিশেষ পরিকল্পনা করছে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি শিক্ষার সমান্তরালে চিনা, জাপানি, কোরিয়ান বা আরবি ভাষার মতো একটি তৃতীয় ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। দেশের কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোর মান্ধাতা আমলের যন্ত্রপাতি বদলে আধুনিক ল্যাব তৈরি ও শিক্ষক সংকট দ্রুত সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. আমানুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা পর্বে বক্তারা উল্লেখ করেন, সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ এবং আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও ওমানের উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলোর কারণে লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য শক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো খাতে কাজের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে কেবল প্রথাগত শ্রমিক না পাঠিয়ে চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক সনদ ও সরাসরি নিয়োগের সমন্বয়ে একটি কার্যকর ‘স্কিলস-টু-এমপ্লয়মেন্ট পাইপলাইন’ তৈরির আহ্বান জানানো হয়।

মূল প্রবন্ধে অ্যারাইজ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক কানিজ ফাতেমা বলেন, গলফ অঞ্চলকে শুধু অদক্ষ শ্রমিক পাঠানোর গন্তব্য ভাবলে চলবে না। একে বৈশ্বিক কৌশলগত বাজার হিসেবে বিবেচনা করে সরাসরি আন্তর্জাতিক নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে দেশের তরুণদের সংযুক্ত করতে হবে।