জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব মিজ অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের নিজ কার্যালয়ে এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা এবং সংসদীয় কূটনীতির বহুমাত্রিক দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকালে স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের জনগণ জন্মগতভাবেই গণতন্ত্রকামী এবং নিজেদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় এদেশের মানুষ বারংবার আত্মত্যাগ করেছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এদেশের বীর বাঙালি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও অধিকার আদায়ে অকাতরে জীবন উৎসর্গ করতে কুণ্ঠাবোধ করেনি। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, দেশের সাধারণ জনগণ কখনো কোনো স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থাকে মেনে নেয়নি বা সমর্থন করেনি।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটভূমির ওপর আলোকপাত করে স্পিকার আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত বিজয়ের পর সার্বিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পাওয়াটা সহজ ছিল না। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর স্বাধীন বাংলাদেশ গঠিত হলেও প্রকৃত গণতান্ত্রিক চর্চা বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বেই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয় এবং তিনি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।
দেশের বিগত জাতীয় নির্বাচনগুলোর সমালোচনা করে স্পিকার মন্তব্য করেন, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনগুলো ছিল মূলত প্রহসনের রূপান্তর। এসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারের অবসান ঘটে। তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল দেশের ইতিহাসে অন্যতম অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। বর্তমানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে।
আইপিইউ মহাসচিব মিজ অ্যান্ডা ফিলিপ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এদেশের মানুষের অদম্য স্পৃহায় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গণতান্ত্রিক নানা সংস্কার ও সময়োপযোগী সংশোধনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মজবুত ভিত্তি রেখে যাওয়া বর্তমান নেতৃত্বের বড় দায়িত্ব। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি কার্যকর ও শক্তিশালী সংসদ ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ফেরানোই গণতন্ত্রের মূল চাবিকাঠি।
বৈঠকে জাতিসংঘের অধীনস্ত সংস্থাগুলোয় বাংলাদেশের ভূমিকা, আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত মামলার ইতিবাচক নিষ্পত্তি এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ সংসদীয় কূটনীতির উপযোগিতা নিয়ে দুই পক্ষ একমত পোষণ করে। অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি, চীফ হুইপ মোঃ নূরুল ইসলাম এমপি, সংসদ সচিবালয়ের সচিব এবং আইপিইউ প্রতিনিধিদলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



