― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

বদলে যাওয়া জাতীয় অগ্রাধিকার: গ্রামীণ উন্নয়ন কৌশল পর্যালোচনায় বাংলাদেশ ও আইএফএডি

বদলে যাওয়া জাতীয় প্রেক্ষাপট ও বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকি মাথায় রেখে বাংলাদেশে গ্রামীণ অর্থনৈতিক রূপান্তরের কৌশল পুনর্নির্ধারণ করছে সরকার ও জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (আইএফএডি)। জলবায়ু সহনশীলতার সঙ্গে গ্রামীণ কর্মসংস্থান, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, উন্নত প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক বাজারের সরাসরি সংযোগ ঘটানোর তাগিদ দিয়েছেন নীতি-নির্ধারকেরা।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ঢাকায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও আইএফএডি-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের কর্মশালায় এসব কথা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে আইএফএডি-এর ‘কান্ট্রি স্ট্র্যাটেজিক অপারচুনিটিজ প্রোগ্রাম (সিওএসওপি) ২০২৩–২০২৮’-এর মধ্যমেয়াদি অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং বাকি মেয়াদে কর্মসূচির প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও সময় বাড়ানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

ইআরডির যুগ্ম সচিব মোসলেমা নাজনীন গ্রামীণ উন্নয়নে আইএফএডি-এর দীর্ঘদিনের অবদানের প্রশংসা করে খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং খাল-নদী পুনরুজ্জীবনে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “বিগত বছরগুলোর শিক্ষা খুব স্পষ্ট: প্রকল্পের নকশা সাধারণ ও সহজ রাখতে হবে, শক্তিশালী অংশীদারদের পেছনে বিনিয়োগ করতে হবে, অবকাঠামোর সঙ্গে উৎপাদন সহায়তার সমন্বয় ঘটাতে হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে কখনোই অবহেলা করা যাবে না।”

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কর্মসূচির সার্বিক অগ্রগতি সন্তোষজনক হলেও এলাকাভেদে ফলাফলে পার্থক্য রয়েছে। এ পর্যন্ত ৩৫ লাখ ৮০ হাজার গ্রামীণ মানুষের কাছে এই সেবার সুফল পৌঁছেছে, যার মধ্যে ৪৬ শতাংশ নারী এবং ২৭ শতাংশ তরুণ। প্রায় ৭ লাখ ৪৯ হাজার পরিবার কৃষি উৎপাদন বাড়াতে পেরেছে এবং ২ লাখ ৫৮ হাজার পরিবার সহজ শর্তে ঋণ ও সঞ্চয়সংক্রান্ত আর্থিক সেবার আওতায় এসেছে।

আইএফএডি-এর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক রিহানা রেজা বলেন, কর্মসূচির মূল লক্ষ্য পরিবর্তন না করে বরং যুব কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কৃষি সেবায় বেশি নজর দিতে হবে। এ ছাড়া জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াক এবং আইএফএডি-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর ভ্যালেন্টাইন আচানচো গ্রামীণ অর্থনীতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার ওপর জোর দেন।

পরিশেষে, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, তরুণদের দক্ষতা ও উদ্যোক্তা তৈরি, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্ব বাড়ানোর বিষয়ে সবাই একমত প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ‘গ্রীন’ (GREEN) এবং ‘ক্রালেপ’ (CRALEP)-এর মতো নতুন জলবায়ু সহনশীল প্রকল্পগুলোকে সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়।