― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

নড়াইল-২ আসনের জামায়াত এমপির ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান তালিকায় দুই জায়গায় নিজের মেয়ের নাম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা আতাউর রহমানের (বাচ্চু) সরকারি ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান বণ্টন তালিকায় বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সচিবালয় থেকে অনুমোদিত ও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বরাদ্দ পত্রে দেখা গেছে, আর্থিক সহায়তার তালিকায় দুই জায়গায় খোদ সংসদ সদস্যের নিজের মেয়ের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় পর্যায়সহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সংসদ সদস্য নিজেই নড়াইল জেলা পরিষদে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে উপস্থিত হয়ে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংসদ সদস্যের নিজস্ব বিবেচনামূলক কোটার ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকার একটি অনুদান মঞ্জুরি পত্র শুক্রবার ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। মোট ২১ জন সুবিধাভোগীর এই তালিকায় ১ ও ৮ নম্বর ক্রমিকে যথাক্রমে ‘মো. বাচ্চু’ ও ‘মো. আতাউর’ নামের বাবার অধীনে ‘ফাইজা’ নামের এক ব্যক্তির অনুকূলে ১০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, এই ফাইজা অন্য কেউ নন, খোদ সংসদ সদস্যেরই কন্যা। এর পাশাপাশি তালিকায় থাকা আঞ্চলিক আধিপত্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে; নড়াইল সদরের বরাদ্দের বড় অংশ সংসদ সদস্যের নিজ ইউনিয়ন হবখালী এবং লোহাগড়া উপজেলার বরাদ্দের সিংহভাগ তাঁর শ্বশুরবাড়ির এলাকা লাহুড়িয়ার বাসিন্দাদের নামে বরাদ্দ করা হয়েছে।

এই চরম বিতর্কের মুখে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান পুরো ঘটনার দায় তাঁর ব্যক্তিগত সচিবের (পিএস) ওপর চাপিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ঢাকায় অবস্থানকালে জরুরি ভিত্তিতে তালিকা জমা দেওয়ার তাগিদ থাকায় তাঁর স্বাক্ষরিত প্যাড ব্যবহার করে পিএস নিজের পরিচিত মানুষদের নাম দিয়ে এই খসড়া তালিকাটি তৈরি করেছিলেন। অসাবধানতাবশত পিএস তাঁর পরিবারের সদস্য এবং নিকটাত্মীয়দের নাম সেখানে যুক্ত করে ফেলেছেন, যা সংসদ সদস্য নিজে আগে জানতেন না। এমনকি বরাদ্দ অনুমোদনের বিষয়টিও তিনি গতকালের আগে অবহিত ছিলেন না বলে গণমাধ্যমকে সাফ জানিয়েছেন।

তবে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনের অনমনীয় অবস্থানের কারণে। নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি এম রাহসিন কবির স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী সচিবালয় থেকে অনুমোদিত তালিকার বাইরে বা নতুন কোনো তালিকায় এই অর্থ বিতরণের কোনো আইনি সুযোগ নেই। সংসদ সদস্য নতুন কোনো তালিকা দিলে প্রশাসন তা গ্রহণ করতে পারবে না; কেবল পূর্বের তালিকা সংশোধন করতে হলে পুনরায় সচিবালয়ের অনুমোদন নিয়ে আসতে হবে, অন্যথায় অবিতরণকৃত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত যাবে। সংসদ সদস্য অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি প্রকৃত দুস্থদের জন্য একটি নতুন তালিকা তৈরি করে দ্রুতই স্থানীয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করবেন।