ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় একটি স্থানীয় পুকুর থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন যুবলীগের এক নেতার গলাকাটা ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশ। আজ শনিবার (২৭ জুন, ২০২৬) ভোরের দিকে উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের অন্তর্গত নিজকুঞ্জরা সমিতি বাজার সংলগ্ন একটি জলাশয় থেকে তাঁর লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো ও ভারী অস্ত্রের মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। নিহত ওই যুবলীগ নেতার নাম যোবায়ের হোসেন (৩৫); তিনি স্থানীয় ঘোপাল ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্বরত ছিলেন এবং সম্প্রতি একটি ফৌজদারি মামলায় কারাবাসের পর আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নথিসূত্রে জানা গেছে, নিহত যোবায়ের হোসেন জেলা পুলিশের তালিকাভুক্ত একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, অবৈধ অস্ত্র, মারামারি, চাঁদাবাজি এবং ছিনতাইসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে ৩০টিরও বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ক্ষুব্ধ জনতা যোবায়েরের পৈতৃক বাসভবনে অগ্নিসংযোগ করেছিল এবং তাঁর ডেইরি খামারের গবাদিপশু লুট করে নিয়ে যায়। জেলা পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পূর্বশত্রুতা ও অপরাধ জগতের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় দুই যুবকের সাথে যোবায়েরের তীব্র বাকবিতণ্ডা ও একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে উপস্থিত প্রতিবেশীরা সাময়িকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে দিলেও গভীর রাতে ওই দুই যুবক জরুরি আলোচনার কথা বলে যোবায়েরকে তাঁর বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন এবং তাঁর মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। আজ ভোরে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজকুঞ্জরা সমিতি বাজার এলাকার একটি পুকুরে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ ভাসতে দেখে ছাগলনাইয়া থানা পুলিশকে খবর দেন।
হত্যাকাণ্ডের পর ছাগলনাইয়া থানার ঘোপাল তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক রতন দেবনাথ জানান, নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ওই দুই যুবকের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে এবং তাদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান চলছে। ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) প্রত্যুষ কুমার মজুমদার গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, নিহতের বাবা আবু তাহের দুপুরে থানায় একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। জড়িত অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে।



